জাতীয়

মানুষ অনাহারে মারা না গেলেও অপুষ্টিতে ভুগছে: ডা. জাফরুল্লাহ

ঢাকা, ১২ মার্চ – গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় সব কিছু মনে রাখতে পারে না, অনেক কিছুই ভুলে যায়। তাই এদেশের ইতিহাসকে বারে বারে বলতে হবে। ১৯৭৪ সালে দুঃশাসনের কারণে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। অমর্ত্য সেন তার বইয়ে লিখেছেন, সেই বছর সবচেয়ে বেশি খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভিক্ষ হওয়ায় তখন তিন লাখ মানুষ মারা যায়। সেই দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আবারও শোনা যাচ্ছে। অনাহারে মারা যাচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু মানুষ অর্ধাহারে ও অপুষ্টিতে ভুগছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণ সভায় ডা. জাফরুল্লাহ এসব কথা বলেন। মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সভার আয়োজন করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্মৃতি পরিষদ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা এক ব্যক্তির ইতিহাসে পরিণত করেছি। কিন্তু কোনো জাতি এক ব্যক্তি দ্বারা সৃষ্টি হয়নি। দেশ স্বাধীনের পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন সবার অবদান রয়েছে। প্রবাসী এডভাইজার তাজউদ্দিন আহমেদ, মওলানা ভাসানী, মুজাফফর আহমেদসহ সবারই অবদান রয়েছে। আজকে আমাদের চেতনাকে উজ্জীবিত যারা করেছে তাদের কথা আমরা স্মরণ করি না। জীবিতদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম ভাইতো আছেন, তাকে আমরা কতটা স্মরণ করি। মওদুদ ভাই চলে গেছেন। কিন্তু এখন যারা আছেন তাদের কেউ দেখে না। এটাই হল জাতির দূরভাগ্য।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বলেন, যখন আমি আগরতলায় ফিরে আসতাম তখন তাজউদ্দীন ভাই সব সময় বলতেন, জাফরুল্লাহ আমি জানি আলজেরিয়ার ইতিহাস, এ দেশ যখন স্বাধীন হবে তখন হয়তো আমি থাকবো না। এটাই হলো জাতির দুর্ভাগ্য। যারা জাতিকে দেয়ার চেষ্টা করে তারা সব সময় স্মরণযোগ্য হয় না। সেই একই অবস্থা হয়েছে আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদের এবং আমাদের প্রবাসী সরকার তাজউদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে। আমাদের তাদের মনে রাখা উচিত।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে স্মরণ করে জাফরুল্লাহ বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ইংল্যান্ডে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যারা ইংল্যান্ডে যেতে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা নিয়ে সেখানে তিনি আন্দোলন করছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যারিস্টার মওদুদ এবং আমিনুল ইসলাম প্রবাসী সরকারকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।

মওদুদ আহমদকে স্মরণ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা দুজন দুই দল করতাম। কিন্তু সম্পর্ক ছিল আন্তরিক ও পারিবারিক। মওদুদ আহমেদ ৫২ সালে ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ছাত্র রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন কেউ কেউ অস্বীকার করতে চাইছে। ৭৪ সালের জরুরি অবস্থার সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরশাদের আমলে কারাগারে ছিলেন, বিএনপির আমলেও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি কারাবাস নিয়ে বই লিখেছেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে মওদুদ একজন দক্ষ মানুষ ছিলেন জানিয়ে জেএসডি সভাপতি বলেন, আমরা তাকে সম্মান দিতে পারিনি। বর্তমান তাকে অসম্মান করেছেন। এই সরকার কারও অবদান মূল্যায়ন করে না। কাউকে মর্যাদা দিতে রাজি নয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ও ভাষা আন্দোলনের সমস্ত ইতিহাস একটি পরিবারের কাছে বিলীন করা হচ্ছে। কারও একক অবদানে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রায়ই দেখি বড় বড় দলের নেতারা তাদের নেতাদের নেতৃত্বে উপর সন্তুষ্ট না। তারা যখন এমনি বলে, তখন তারা বলে ১৩ বছর ধরে একটু সরকার ক্ষমতায় এছে। তারা (অন্যান্য দল) কি করেছে? কিন্তু সেই নেতা যখন মঞ্চে উঠে তখন তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনো কথা বলে না। একটা দেশ এরকম করে গড়ে উঠতে পারে না।

মান্না বলেন, একবার ভাবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেটা যদি সেই দেশের সেনাবাহিনী প্রধান বুদ্ধিজীবীরা সমর্থন দিত তাহলে আমেরিকান ডেমোক্রেসির কী অবস্থা হতো? কিন্তু সে দেশের সেনাপ্রধান সেটা করেনি। আর আমার দেশের সেনাপ্রধান, আমি শুধু বর্তমান সেনাপ্রধানের উদ্দেশ্যেই বলছি না, সেরকমটা পারবে না। পুলিশপ্রধান বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতা বলেন আর বুদ্ধিজীবী বলেন, প্রত্যেকেই নিজের বিশ্বাস গিলে ফেলে তার পরে কথা বলছি, যাতে আমার নেতা সন্তুষ্ট হন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

সূত্র: ঢাকাটাইমস
এম ইউ/১২ মার্চ ২০২২

Back to top button