দক্ষিণ এশিয়া

কমেডিয়ান থেকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হলেন ভগবন্ত

চণ্ডীগড়, ১২ মার্চ – দিল্লির পর এবার পাঞ্জাবের বুকে ইতিহাস গড়ল আম আদমি পার্টি। ভারতের পাঞ্জাবের মসনদে বসতে চলেছেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ভগবন্ত মান। রাজনীতিতে আনকোড়া সদস্য থেকে মাত্র ১১ বছরেই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি। তার রাজনৈতিক যাত্রা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে।

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সকাল থেকেই ভগবন্ত মানের বাসভবনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উৎসবের আমেজ তুঙ্গে থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা কংগ্রেসের চরণজিৎ সিং চান্নিকে হারিয়ে বিজয়ের হাসি হেসেছেন ভগবন্ত। এবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে রাজ করবেন তিনি।

পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর থেকে দুবারের সাংসদ নির্বাচিত হলেও রাজনীতির থেকে হাস্যকৌতূকের দুনিয়ায় বেশি জনপ্রিয় ছিলেন ভগবন্ত। ১৯৭৩ সালে ১৭ অক্টোবর পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে হাস্যকৌতূকের ওপর একটি অডিও ক্যাসেট বের করে প্রথম লাইমলাইটে আসেন। সে সময় তিনি শহিদ উধম সিং কলেজে বি.কমের ছাত্র ছিলেন। সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক কৌতূকে ভর করে দ্রুত উপরে উঠে যান। টিভিতে ‘জুগনু মস্ত মস্ত’ নামে একটি কমেডি শো করতে শুরু করেন। যা তাকে পাঞ্জাবে জনপ্রিয়তা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে কমেডির রাজা হয়ে যান।

আগে থেকে রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা ছিল না ভগবন্তের। কিন্তু ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছে আচমকাই রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। মনপ্রীত সিং বাদলের দল পিপলস পার্টি অব পাঞ্জাবে যোগ দেন। ২০১২ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের আগে মনপ্রীত নিজের দলকে কংগ্রেসের সঙ্গে জুড়ে দিলে দল ছাড়েন ভগবন্ত। সেই সময় কেজরিওয়ালের ডাকে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন তিনি। এরপর সাঙ্গরুর কেন্দ্র থেকে ২ লক্ষ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে লোকসভায় জেতেন তিনি। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ ছিলেন ভগবন্ত।

তবে ভগবন্তের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগও রয়েছে। একাধিকবার মদ্যপ অবস্থায় তার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজরিওয়ালের কথায় মদ পুরোপুরি ছেড়ে দেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ভগবন্ত মানের মূল মন্ত্র ছিল আসল পাঞ্জাব প্রদেশ ফেরানোর লড়াই। শহিদ ভগৎ সিংয়ের নামে শপথ নিয়ে মাথায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ট্রেডমার্ক বাসন্তী রঙা পাগড়ি পরে প্রচারণা চালিয়েছেন। কেজরিওয়ালের পর ভগবন্তই হলেন আম আদমি পার্টির দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্র : আরটিভি
এন এইচ, ১২ মার্চ

Back to top button