ফুটবল

নাটকীয় ম্যাচে বেনজেমার হ্যাট্রিকে রিয়ালের জয়

পিএসজির জন্য এ যেন এক দুঃস্বপ্নের রাত, এবারেও জেতা হলো না তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। বেনজেমার হ্যাট্রিকসহ রেকর্ডে রাউন্ড ১৬ থেকেই বিদায় নিতে হল প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজির)।

ঘরের মাঠে খেলতে নেমে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। পিএসজির বিপক্ষে করিম বেনজেমার হ্যাট্রিকে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ অ্যাগ্রিগেটে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে এমবাপ্পের একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল পিএসজি।

নিজেদের মাঠে ১-০ গোলের জয় নিয়ে বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাঠে নামে প্যারিসের দলটি। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমাট প্রথমার্ধের খেলায় নায়ক সেই এমবাপ্পে। প্রথম লেগের ম্যাচেও একমাত্র গোলটি ছিলো তার। এছাড়া সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেও এমবাপ্পে তার জাদু দেখিয়েছে। প্রথমার্ধতেই ২টি বল জালে জড়ায় তিনি। তবে অফসাইডের কারণে ১টি গোল বাতিল হলে খেলায় ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় পিএসজি।

তবে ম্যাচের শুরু থেকে গোল করতে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি। বেনজেমার বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে গোল না পাওয়ার হতাশায় পুড়তে হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। অবশ্য ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পায় পিএসজিই। বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া নেইমার দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে যে প্লেসিং শট নেন তা সহজেই আটকে দেন রিয়ালের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কর্তোয়া।

২৪ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল মাদ্রিদ। বেনজেমার নেয়া চমৎকার বাঁকানো শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় মাঠের বাহিরে।

৩০ মিনিটে মেসি-নেইমার যুগলবন্দীতে গোল পেয়েই গিয়েছিলো পিএসজি। বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে নেইমার পাস দেন মেসিকে। সামনে শুধু গোলরক্ষককে পেয়ে নেইমারের পাস থেকে মেসি যে শট নেন তা গোল লাইন থেকে ফেরান নাচো। ৩৬ ও ৩৭ মিনিটে বেনজেমার দুটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রথমবার তার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরেরটি লাফিয়ে নিজের আয়ত্তে নেন পিএসজি গোলরক্ষক।

৩৮ মিনিটে গোলের দেখা পেয়ে যায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো নেইমারের বুদ্ধিদীপ্ত পাস ধরে স্প্রিন্ট শুরু করেন এমবাপ্পে। তারপর ডি বক্সে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথায় পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক কর্তোয়াকে।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রিয়াল। তবে তাদের আক্রমণগুলো পরিণতি পাচ্ছিল না। উল্টো দ্বিতীয়বার লক্ষ্যভেদ করে বসেন এমবাপ্পে। যদিও অফসাইডে বাতিল হয় সেই গোল। রিয়াল এ সময় সমতায় ফেরানোর চেষ্টা করলেও, পালটা আক্রমণে এমবাপ্পে বারবার বিপদ তৈরি করছিলো। তবে এর মধ্যে পিএসজি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার মারাত্মক ভুলে সমতায় ফেরে রিয়াল। ইতালিয়ান এই গোলরক্ষক ঠিকঠাক বল ধরে পাস দিতে না পারায় সেই বল পান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার পাস থেকে সহজে গোল করেন বেনজেমা।

ম্যাচে সমতা ফেরার পর আক্রমণ পালটা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। দুই দলই এ সময় গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে দুই মিনিটের মধ্যে পরপর দুই গোলে হ্যাট্রিক করে বার্নাব্যুকে ফের উচ্ছ্বাসে ভাসান বেনজেমা। দুই লেগ মিলিয়ে তখনই প্রথম লিড নেয় রিয়াল। আর এই দুই গোলেই শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১০ মার্চ

Back to top button