জাতীয়

শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপে বসছে নতুন নির্বাচন কমিশন

ঢাকা, ১০ মার্চ – আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করছে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপের শুরুতেই শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করবে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন এ কমিশন।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

ইসি সূত্র জানায়, শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান উপাচার্যদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

রোববার অনুষ্ঠেয় এ সংলাপে শুধু আলোচনা নয়, নির্বাচনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেয়া হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। এছাড়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও নির্বাচন কমিশন কর্মকৌশল ঠিক করবে জানান তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে স্বচ্ছতা নিয়েই নির্বাচন কমিশন কাজ করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করা হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপ করার চিন্তা আছে ইসির। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু ঠিক হয়নি বলে জানায় ইসি সূত্র।

এর আগে, এটিএম শামসুল হুদা, কাজী রকিব উদ্দীন ও নূরুল হুদা কমিশনও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করেছিল। নূরুল হুদা কমিশনের সংলাপে ৩৯টি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারীনেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছিলেন। সেই সংলাপে আসা সুপারিশগুলো তিন ভাগে ভাগ করেই মূলত দায়িত্ব শেষ করেছিল ইসি। জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার, ‘না’ ভোটের বিধান চালু করাসহ কয়েকটি বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সুপারিশ এসেছিল সংলাপে। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেই দায়িত্ব শেষ করে ইসি। আর সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, কিছু মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনের সময় ইসির অধীনে নেয়াসহ ছয়টি সুপারিশকে ‘সাংবিধানিক বিষয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে। সেসব ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই বলে জানায় ইসি।

নূরুল হুদা কমিশনের বিদায়ের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন শপথ নেয়। কমিশন এখনও সেই অর্থে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলে আসছেন, গত দুটি কমিশন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভোট এবং ইসির প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট দূর করে আস্থা অর্জন করাটা নতুন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংলাপ আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১০ মার্চ

Back to top button