ক্রিকেট

৫৩ দিনের বিশ্রাম কি সাকিব ও বোর্ডের মধ্যকার দেয়াল মেটাবে?

ঢাকা, ০৯ মার্চ – মুঠোফোনে সাকিবের সঙ্গে কথোপকথন ও টিভির পর্দায় সাকিবকে দেখে মেলাতে পারছিলেন না বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তার ভাষায়, ‘আমার সঙ্গে যখন কথা হয়েছিল তখন ওকে বিষণ্ণ লাগছিল। কিন্তু টিভিতে দেখলাম অনেক অর্গানাইজড। হাসিখুশি লাগছিল পুরোটা সময়।’

মুঠোফোনে সাকিবের ওই বিষণ্ণতার কারণ শারীরিক ও মানসিকভাবে সে আনফিট। সেজন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে বিশ্রাম চেয়েছেন। দুদিন সময় নিয়ে বিসিবি তাকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রামে পাঠিয়েছে। ৫৩ দিনের এই বিশ্রাম কি সাকিব ও বোর্ডের মধ্যে যে দেয়াল তা মেটাবে?

দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরার অভিযোগে চাইলেই সাকিবের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারে বিসিবি। বোর্ডের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার হিসেবে তার যেকোনো সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব বোর্ডের। পাশাপাশি নিজের দাবি-দাওয়াও তুলে ধরবেন বোর্ডের কাছে। কিন্তু সাকিব বরাবরের মতো এবারও বোর্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন।

জেনেও কেন এমন ভুল, শৃঙ্খলা ভঙ্গ সাকিবের? উত্তরটা জানা নেই জালাল ইউনুসের কাছেও, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে কিনা…আমি বলেছি, মিডিয়ায় বলার আগে আমাদের সঙ্গে বলা উচিত ছিল। সে বলেছে যে, ব্যাপারটা সে জানে। আমাদের জিজ্ঞেস করতে পারত। কিন্তু কেন করেনি সেটা তাকেই জিজ্ঞাস করলে ভাল হয়। সে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারত এবং আলোচনা করা উচিত ছিল।’

তবে সাকিবের এই শৃঙ্খলা ভঙ্গকে নতুন নামে পরিচিত করতে চাইলেন জালাল ইউনুস, ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট সেটা সে বলতে পারে। যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু এর পরে কী সিদ্ধান্ত বা কী হবে সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। সে আসুক তারপর দেখা যাবে।’

আগের দিন বিসিবির আরেক পরিচালক ও দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সাফ জানিয়েছিলেন, সাকিবের এসব স্বেচ্ছাচারিতার ফুলস্টপে আসা উচিৎ। ২৪ ঘণ্টা পর জালাল ইউনুসের কণ্ঠে নরম সুর, ‘এটার উত্তর এখন দিতে পারছি না। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। সাকিবকে নিয়ে কোন কিছু করতে হলে আমাদের আলোচনা করতে হবে।’

সেই আলোচনাতেই এবার পাকাপাকি একটা সমাধান চায় বোর্ড। তাকে সামলানোর পথ খুঁজতেই ওই আলোচনা। সাকিব নিজের মতো করে এক বছরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে চায়। বোর্ডও তার কাছে জানতে চায় এক বছরের পরিকল্পনা। তার দেশে আসার পর আলোচনায় বসে সেসব ঠিক করতে মুখিয়ে বিসিবি।

জালাল ইউনুস বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর আরো সিরিজ আছে। তার কী পরিকল্পনা, সেটা দেশে আসার পর আমাদের সঙ্গে বসে জানাবে। তার পরিকল্পনা শুনি, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

সাকিবকে নিয়ে বিসিবি সামনের পথগুলো মসৃণভাবে চলতে চায়। তবে সাকিবকে কোনো কিছুই জোর করবে না। সঙ্গে মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের থেকে আরো ইতিবাচক মনোভাবের আশায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

‘সাকিব স্টিল আমাদের সেরা ক্রিকেটার। তার থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। আমরাও বিশ্বাস করি দেশকেও তার দেওয়ার আছে। তবে এগুলো কখনই ভাল উদাহরণ না। এটা আমরাও স্বীকার করি। কারণ আরো ১৪ জন ক্রিকেটার আছে। তারা তো সিনিয়রকেই অনুসরণ করে। আমরাও চাইবো, সিনিয়রদের ভাইবটা ইতিবাচক হওয়া উচিত।’

সূত্রঃ রাইজিংবিডি
এম ইউ/০৯ মার্চ ২০২২

Back to top button