জাতীয়

হাদিসুরের লাশ একা রয়ে গেল

সারোয়ার সুমন

চট্টগ্রাম, ০৮ মার্চ – ১৩ দিনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বিমানে উঠেছেন ২৮ নাবিক। তাদের নিতে বুধবার দুপুরে বিমানবন্দরে আসবেন স্বজনরা। আনন্দ অশ্রুতে সিক্ত হবেন তারা। হয়তো একে অপরকে জড়িয়ে ধরবেন পরম আবেগে। কিন্তু এই আনন্দে থাকবেন না শুধু একজন। লাশ হয়ে হাদিসুর এখনও সেই ‘মৃত্যু উপত্যকা’য়।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, ‘২৮ নাবিক রোমানিয়ার বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার রাত ১০টায় রওনা দিয়েছেন। বুধবার দুপুর পৌনে দুইটা নাগাদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন তারা।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ২৮ নাবিকের সঙ্গে আসছে না হাদিসুরের লাশ। তবে ছয় থেকে সাত দিন পর আনা হতে পারে। এ ব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা।’

জাহাজের পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং ও পরিকল্পনা) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ২৮ নাবিক যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ পেতে বীমা কোম্পানির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ জাহাজটি মেরামত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তা এখনই বলতে পারছে না বিএসসি।

এদিকে বিএসসির এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুদ্ধাবস্থায় ইউক্রেনে জাহাজ পাঠানোর ব্যাপারে তাদের কোনো গাফেলতি নেই। তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সমাধান করেছেন। বাংলাদেশের জাহাজটি যখন ইউক্রেনের সমুদ্রসীমায় যায় তখন যুদ্ধ শুরু হয়নি।

বাংলার সমৃদ্ধিসহ আরও ২১টি জাহাজ একইদিন অলভিয়া বন্দরে আভ্যন্তরীণ অ্যাংকরেজে প্রবেশ করে। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের জাহাজে গোলা এসে পড়ায় নিহত হন হাদিসুর রহমান। এখানে বিএসসির কোনো অবহেলা ছিল না। ২৮ নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিএসসি।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০৮ মার্চ ২০২২

Back to top button