জাতীয়

ভোজ্যতেলে ৩ মাসের জন্য ভ্যাট স্থগিত চায় এফবিসিসিআই

ঢাকা, ০৭ মার্চ – ভোজ্যতেলে নূন্যতম ৩ মাস ভ্যাট স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বা এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবং আমদানিকারক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রস্তাব রাখেন।

সভায় ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী কোম্পানি, পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, বাজেটে ভোজ্যতেলে ভ্যাট ধরা হয়েছিল ৯ টাকা, সরকার এখন প্রতি লিটারে ভ্যাট নিচ্ছে ২৭ থেকে ৩০ টাকা।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ভোজ্য তেলের বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভর্তুকি কিংবা কর সমন্বয় করতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে এ পর্যন্ত তিনবার কর সমন্বয় করে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও একবারও হয়নি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই নেতা জানান, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাতে বিষয়টি তোলা হয়েছে। রোববার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি তাদের বলেছি আপনি যখন বাজেটটা করলেন তখন বললেন, আপনি প্রতি কেজি ভোজ্যতেলে ১১ টাকা ভ্যাট পাবেন। কিন্তু এখন ৩০ বা ৩৩ টাকা পাচ্ছেন, এটা কেন?

কোভিড মহামারীর কারণে পাল্টে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, শিপিং কস্ট বেড়ে গেছে। সাপ্লাই চেন ভেঙে গেছে। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাব যে, আগামী অন্তত ৩ মাসের জন্য ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত বলে আমি মনে করি।

এসময় ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতি, পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতি এবং আমদানিকারকদের নিজস্ব ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মজুতদার এবং বেশি দামে তেল বিক্রি করাসহ নিয়ম লঙ্ঘনকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।

এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকেও বাজার পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান শীর্ষ এই ব্যবসায়ী নেতা।

সম্প্রতি বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।

আর্ন্তজাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণ দেখিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা করে বাড়ানোর ২০ দিনের মাথায় আবারও ১২ টাকা করে বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

মিল মালিকদের এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে সেসময় বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রমজান মাস সামনে রেখে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেটা মানতে হবে।

গত কয়েকমাসে ভোজ্যতেল আমদানির তথ্য তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, একমাস বা দুই মাস আগে এক হাজার, বারোশ বা তেরশ ডলার করে যারা আমদানি করেছেন তাদের কাছে তেল জমা আছে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ১ হাজার ৮০০ ডলার হয়ে গেছে। যাদের কাছে আগের কম দামে কেনা তেল জমা আছে তার আজকের আন্তর্জাতিক বাজারের দামে বিক্রি করতে চাচ্ছেন।

এসময় ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জসীম উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার বলে ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ভোজ্যতেল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। অথচ আগে এটা ছিল সরকারের কাছে। বন্ডের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দেয়া হত। তখন স্টকটা সরকারের কাছেই থাকত। যার যত দরকার দিত।

তিনি বলেন, আপনারা সরকার এবং দেশের মানুষকে সহযোগিতা না করলে আমি সরকারকে আবারও তেলের স্টক সরকারের কাছে রাখার পরামর্শ দেব।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। ২০২১ সালে ২৭ লাখ ৭১ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। সে হিসেবে তেলের মজুদ ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে।

সভায় মেঘনা গ্রুপের সিনিয়র এজিএম তাসলিম শাহরিয়ার দাবি করেন, গত এক বছরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ। একই সময়ে দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার ২১ শতাংশ।

তবে এই তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববাজারের আজকের রেট হিসাব করে আপনি গড় করছেন। অথচ আজকের বিশ্ববাজারের তেল তো আপনার কাছে নেই।

“সরকার এবং দেশের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবেন না” বলেন জসীম উদ্দিন।

সভায় দেরিতে তেল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়ীদের তেলের যোগান ঠিক করে দিলে আমরা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা দাবি করেন, মিলমালিকদের পক্ষ থেকে বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিদিন ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেট্রিক টন তেল সিটি গ্রুপের কারখানা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রতি ১৫ দিনে একবার তেলের দাম নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক হারুন অর রশীদ, আবু হোসাইন ভুঁইয়া (রানু), মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০৭ মার্চ

Back to top button