দক্ষিণ এশিয়া

প্রাক্তন এনএসই কর্তা চিত্রা রামকৃষ্ণ কো-লোকেশন কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার

নয়া দিল্লি, ০৭ মার্চ – দুর্নীতির খোঁজ আগেই মিলেছিল, এবার গ্রেফতার করা হল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া-র প্রাক্তন এক্সেকিউটিভ অফিসার চিত্রা রামকৃষ্ণ-কে। রবিবার, ৬ মার্চ তাঁকে কো-লোকেশন কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই তিনি আগাম জামিনের আবেদন করলেও, সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জামিনের আর্জি বাতিলের পরদিনই তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। সিবিআই-র তরফে চিত্রার গ্রেফতারির সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তদন্তে অসহযোগিতা করছেন এবং তার মধ্য়ে মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

কী এই কো-লোকেশন কেলেঙ্কারি?

চলতি বছরেই বিতর্ক শুরু হয় সেবির নিয়োগ নিয়ে। প্রশ্ন ওঠে প্রাক্তন এনএসই কর্তা চিত্রা রামকৃষ্ণের ভূমিকা নিয়েও। জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল অবধি সংস্থার সিইও থাকাকালীন তিনি হিমালয়ের এক সাধুর নির্দেশ মতোই যাবতীয় নিয়োগ করতেন। আর্থিক দুর্নীতি, এমনকি সংস্থার একাধিক গোপন তথ্যও ফাঁস করে দিয়েছিলেন চিত্রা বলে অভিযোগ। পরে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করার পর জানা যায়, চিত্রার ‘সাধু শিরোমণি’ আর কেউ নন, বরং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেরই প্রাক্তন মুখ্য কার্যনিবাহী আনন্দ সুব্রহ্মণ্যম। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তাঁকে একটানা জেরার পর চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ৬ মার্চ অবধি তাঁকে সিবিআই হেফাজতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থার ফরেন্সিক অডিট রিপোর্টেও সুব্রহ্মণ্যমকে ‘রহস্যজনক যোগী’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক। তবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)-র তরফে ওই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, এনএসই-র প্রাক্তন সিইও রবি নারায়ণের পর ২০১৩ সালে ওই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন চিত্রী রামকৃষ্ণ। সেই সময়ই তিনি সুব্রহ্মণ্যমকে নিজের পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। প্রতি বছর তাঁকে ৪.২১ কোটি টাকার মোটা বেতনও দেওয়া হত।

সুব্রহ্মণ্যমের রহস্যজনক নিয়োগ ও এরপর পদোন্নতি থেকেই দুর্নীতির আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। পরে তাঁকে চিত্রা হিমালয়ের এক যোগী হিসাবে পরিচয় দেন, যার অঙ্গুলি হেলনেই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ থেকে শুরু করে সংস্থার যাবতীয় বড় সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি। ওই ‘যোগী’র সঙ্গে সন্দেহজনক ইমেইল আদান-প্রদান সামনে আনার পরই গোটা বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি সেবি চিত্রা রামকৃষ্ণ সহ একাধিক প্রাক্তন কর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। চিত্রার উপরে ৩ কোটি টাকার জরিমানাও বসিয়েছে সেবি। এছাড়াও সুব্রহ্মণ্যম ও এনএসই-র উপরে ২ কোটি টাকা করে জরিমানা, প্রাক্তন এনএসই সিইও রবি নারায়ণের উপরেও ২ কোটি টাকার জরিমানা বসানো হয়।

এন এইচ, ০৭ মার্চ

Back to top button