ক্রিকেট

ওয়ার্নকে নিয়ে আমার আসল গর্ব জিম্বাবুয়েতে: শাহরিয়ার নাফীস

ঢাকা, ০৫ মার্চ – অন্য সবার জন্য হয়ত ১৩, আনলাকি নম্বর কিন্তু শাহরিয়ার নাফীসের জন্য নম্বরটি আজীবন মনে রাখার মতো। শুধু জাতীয় দলের এ ক্রিকেটারের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশেরই সংখ্যাটা প্রিয়! কারণ ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসটি উপহার দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস।

শেন ওয়ার্নের মিডল স্টাম্পের ওপরের বল। বাক খেয়ে লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। হাল্কা গ্ল্যান্স করলেন নাফীস। বল চলে যাচ্ছে সীমানায়। পেছনে দৌড়াচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক। মিটিমিটি হাসছেন ওয়ার্ন। বল সীমানা পেরিয়ে যেতেই আলীম দারের চারের সিগন্যাল। নাফীসের উদযাপন দেখে কে? তাকে জড়িয়ে ধরলেন হাবিবুল। ওদিকে ওয়ার্ন মাথা চুলকাচ্ছিল। পন্টিং অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়! নাফীসের প্রথম সেঞ্চুরিতে গিলক্রিস্ট হাতে তালি দিয়ে জানান অভিবাদন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেটারের টেস্ট সেঞ্চুরি! তাও শেন ওয়ার্ন, গিলেস্পি, ব্রেট লিদের উড়িয়ে। সেই স্মৃতি আজও তরতাজা নাফীসের মনে। কিন্তু গতকাল সেই তরতাজা স্মৃতিটাই কষ্ট বাড়াচ্ছিল তার! কেন? কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের হঠাৎ মৃত্যুতে তার চোখেও জল। মুঠোফোনে ওয়ার্নকে সামলানোর স্মৃতিচারণ করলেন নাফীস। তার কথা শুনেছেন ইয়াসিন হাসান,

‘খুবই শকিং। আজ আমরা খুব ভালো একটি খবর পেয়েছি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। অ্যালান্ড ডোনাল্ড কিংবদন্তি পেসার বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন…এটা তো বিরাট পাওয়া। যখন এরকম একটা খবর উদযাপন করবো তখন ওয়ার্নের খবরটা চলে আসল। খুবই, খুবই দুঃখজনক। আমি দাঁড়ানো থেকে বসে গেছি খবর শোনার পর। রীতিমত এতোটাই শকিং ছিল। পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। মাত্র ৫২ বছর বয়স…।’

‘তার স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না…ছোটবেলায় ওয়ার্নের খেলা দেখেছি। শুধু ওয়ার্ন না, লারা শচীন ওয়াসিম তাদের খেলা দেখেই তো বড় হওয়া। ’

‘ক্রিকেটে তার এতো দারুণ মস্তিষ্ক। ধারাভাষ্য করছিল। কোচিংয়ে যুক্ত ছিল। ওর কথা শুনতেও ভালো লাগে। এরকম একটা মানুষ হুট করে চলে যাবে কল্পনাও করতে পারিনি। আসলে যার সময় যখন আসে সে তো চলে যাবেই। এটাই তো পৃথিবীর নিয়ম। অপ্রত্যাশিত।’

‘আমি ছোটবেলায় যখন অ্যাশেজ দেখেছিলাম…তখন ও সমানে উইকেট নিচ্ছে। আমি তো তখন ছোট। খেলা দেখে বলেছিলাম, ‘‘ওকে খেলা কোনো ব্যাপার। এমন লেগ স্পিনারের বলে কেউ আউট হয় নাকি।’’ শেন ওয়ার্ন তখন অনেক বড় বোলার। কিন্তু আমি তা জানি না। ’

২০০৬ সালে যখন খেলতে নামি তখন ওই ছোটকালের স্মৃতিই ভাসছিল। আরেহ…এই সেই শেন ওয়ার্ন। যাকে দেখেছি এখন সে খেলছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে যায়। খেললাম ওর সঙ্গে। ওই ১৩৮ রানের ইনিংসে ১৬টি চার মেরেছিলাম। ৯টিই ওয়ার্নকে। পুরো ডমিনেট করেছিলাম। পরের ইনিংসেও ৭৯ করেছিলাম ডমিনেট করে। শেষ পর্যন্ত আমার উইকেট নিয়েছিল। ’

‘ওকে নিয়ে আমার আসল স্মৃতিটা ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে। খেলা শেষে এক সাংবাদিক এসে বলছিল, ‘‘তোমার একটা অটোগ্রাফ লাগবে। ’’ ‘‘আমি জিজ্ঞেস করলাম কিসের?’’ আমাকে উত্তর দিল, ‘‘ওয়ার্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত উইকেট পেয়েছে সবার অটোগ্রাফ সংগ্রহ করছি। চট্টগ্রামে ওয়ার্ন তোমাকে আউট করেছিল। তোমার অটোগ্রাফটা দরকার। ’’ আমি ওই সময়ে আসলে খুব বেশি গর্ব অনুভব করেছি। ১৯৯৪ সালে ওর খেলা প্রথম দেখেছি। ওই সময়ে তো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাথিং। তারপর ওখান থেকে ক্রিকেটার হওয়া, ওদের বিপক্ষে খেলটা…এটা যেমনটা গর্বের তেমনটাই সুখস্মৃতির। খুবই ভাগ্যবান যে এমন একটা সময়ে ক্রিকেট খেলেছি যখন সব কিংবদন্তিদের পেয়েছি। ’

‘সেঞ্চুরি…একটা গ্লান্স করলাম। বলটা ফাইন লেগ দিয়ে বেরিয়ে চার হচ্ছিল। ও তাকিয়ে রইল। মাথা চুলকাচ্ছিল। ও খুব ইকোনমিকাল। কিন্তু ফতুল্লায় বল করছিল আর মার খাচ্ছিল। ও নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিল যে বাংলাদেশের কোনো একজন ক্রিকেটার ওকে ডমিনেট করছে। এটা আজীবন স্মৃতি হিসেবে থাকবে যে ওর বিপক্ষে খেলে ডমিনেট করেছি। ’

‘খুবই শকিং, দুঃখিত, মন খুব খারাপ।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ০৫ মার্চ

Back to top button