চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে এতিমখানার জাহাজ কেটে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা, শিপইয়ার্ড মালিক শুনানিতে যাননি

চট্টগ্রাম, ০৪ মার্চ – ১৯৯৩ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সাগর উপকূলে আটকে যায় ‘রয়েল বাড’ নামে ঢাকার কোনো এক এতিমখানার মালিকানাধীন একটি জাহাজ। এরপর থেকে বিগত ২৯ বছর ধরে একই জায়গায় জাহাজটি আটকে আছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জাহাজটির মালিকানা দাবি করে এটিকে কেটে নিয়ে যাচ্ছিল।

‘ভাটিয়ারী শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড’ নামের যে শিপ ইয়ার্ডের মাধ্যমে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল তাদের লাইসেন্সও নবায়ন ছিল না। অন্যদিকে তারা কাটছে না জানিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভারও নিতে রাজি না বলে জানিয়েছিল ভাটিয়ারী শিপ ইয়ার্ডের মালিকপক্ষ। ফলে এ নিয়ে জটিলতা ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

প্রভাবশালী ওই চক্রটি জাহাজটি কিনে নিয়েছে বলে প্রচার করলেও স্থানীয় এলাকাবাসী বলছেন, কিনে নেয়ার বৈধ কোনো কাগজপত্রও নেই তাদের কাছে। প্রভাবশালী ওই চক্রে আছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের একটি সংঘবদ্ধ দল।

এদিকে ‘ভাটিয়ারী শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড’ নামের একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজটি কাটা হলেও সেই ইয়ার্ডের লাইসেন্সই নবায়ন করা নেই।

এমন সব ঘটনার কথা জেনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তারা জাহাজ কাটার শিপইয়ার্ডে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান।

এরপর বুধবার (২ মার্চ) এতিমখানার নামে দান করা সেই জাহাজটির মালিকানা দাবি করে অননুমোদিত উপায়ে কাটার কারণে গিয়াস উদ্দিন, মাহবুব ও কামাল মেম্বার নামে তিন ব্যক্তিকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন পরিচালক মফিদুল ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল ইসলাম বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে জাহাজ না কাটার কারণে জাহাজের মালিকানা দাবি করা তিন ব্যক্তিকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে নোটিশ পেয়েও ভাটিয়ারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিকপক্ষের কেউ হাজির হননি। তাদের পুনরায় নোটিশ করা হবে। এরপরও হাজির না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৪ মার্চ ২০২২

Back to top button