ইসলাম

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের গুরুত্ব

শাহ্ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্

বিয়ে একটি বিধিবদ্ধ, সার্বজনীন এবং পবিত্র ব্যবস্থা। মানুষকে স্বেচ্ছাচারী জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা থেকে রক্ষা করতে ইসলাম বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য জোর তাগিদ প্রদান করেছে। বৈরাগ্য ইসলামে নিষিদ্ধ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করা ইসলামে নিষিদ্ধ ও ভর্ৎসনামূলক একটি অপরাধ।

পবিত্র কোরআনে বিয়ে এবং স্ত্রী গ্রহণের ব্যবস্হাকে নবী-রাসুলের প্রতি আল্লাহতায়ালার বিশেষ দান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! তোমার পূর্বেও আমি অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছি এবং তাদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের ব্যবস্থা করেছি।’ (সুরা রাদ)। বর্ণিত আয়াতের মর্মবাণী থেকে বোঝা যায়, বিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত এক ঐশী বিধান। বিয়ে সম্পর্কে মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিয়েহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সত্কর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে; যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেন।’ (সুরা নুর: ৩২-৩৩)

বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুবিবেচনার অধিকারী হয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর, সুখকর ও পবিত্র রাখতে হয়। দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে মানব ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তাই, পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম।

পবিত্র কোরআনের পাশাপাশি নবী মুহাম্মদ (সা.) সামর্থ্যবানদের বিয়ের প্রতি বিশেষভাবে উত্সাহ-অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বে কিংবা একেবারে বিয়ে না করাকে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন নবী কারিম (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কেননা রোজা তার ঢালস্বরূপ।’ (বুখারি ও মুসলিম) হজরত রাসুলুল্লাহ (স.) বিয়ে দ্বীনের (ধর্মের) অর্ধেক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিয়ে করল, তার অর্ধেক দ্বীন-ইমান পূর্ণ হয়ে গেল, সে যেন বাকি অর্ধেকের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি) হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, ‘স্বামী-স্ত্রী যখন একান্তে বসে আলাপ করে, হাসি-খুনসুটি করে তার সওয়াব নফল ইবাদতের মতো। তাছাড়া স্ত্রীরা জগতের অস্থায়ী সম্পদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

বিয়ের মাধ্যমে ব্যভিচারের মতো বড় গোনাহ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। নৈতিক চরিত্রের উন্নতি ঘটে। বংশ পরম্পরা অব্যাহত থাকে। সুখময় সমাজ ও আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হয়। ইহ ও পরকালীন কল্যাণ লাভ হয়।

এম এস, ০৪ মার্চ

Back to top button