শিক্ষা

দীর্ঘ ১১ দিন পর আন্দোলন স্থগিত করলো ইবির কর্তকর্তারা

কুষ্টিয়া, ০৩ মার্চ – দীর্ঘ ১১ দিন পর কর্মবিরতির আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘোষণা দেন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এটিএম এমদাদুল আলম। এসময় তিনি সবাইকে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে যেতে বলেন।

জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছে ইবি কর্মকর্তারা। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।

পরে ভিসির আহ্বানে তার বাসভবনে আলোচনায় বসেন কর্মকর্তা সমিতির নেতৃবৃন্দ। সেখানে ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন এবং খুব শীঘ্রই দাবি বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করে দেন। পরে ভিসির বাসভবন থেকে বেরিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এমদাদুল আলম।

আন্দোলনকারী সকলের সাথে আলোচনা না করে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় নিজেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে সকলেই সেখান থেকে চলে যান।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন। যার ফলে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি।

কর্মকর্তাদের দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার মু. আতাউর রহমানকে সদস্য সচিব করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরেফিন, অধ্যাপক ড. মেহের আলী, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়লিদ হাসান মুকুট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আমি একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় এটি উত্থাপন করা হবে। সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, কর্মঘণ্টা কমানো, চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরে উন্নীতকরণের ও বেতনের নীতিমালা পরিবর্তনের দাবিতে গত ১০ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। প্রথম কয়দিন ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করলেও শেষ দুইদিন পাঁচ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০৩ মার্চ

Back to top button