ইউরোপ

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ: ভ্যাকিউম বা থারমোব্যারিক বোমা আসলে কী, রাশিয়া কি ইউক্রেনে এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে?

কিয়েভ, ০২ মার্চ – রাশিয়া ইউক্রেনে ভ্যাকুয়াম বোমা বা থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত। তবে ইউক্রেনে রাশিয়া ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে কিনা সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র। এনিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউরোপের কোনো দেশ। তবে রাশিয়া দাবি করেছে ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেনি তারা। খবর বিবিসির।

প্রশ্ন উঠেছে এই ভ্যাকুয়াম বোমা আসলে কী? এই বোমা কীভাবে কাজ করে? এর আগে এটি কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে? এটি কতটা বিপজ্জনক, ভ্যাকুয়াম বোমার ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে এবং রাশিয়ার এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে কিনা?

ভ্যাকুয়াম বোমা কী?

প্রাণঘাতী ভ্যাকুয়াম বোমা একই আকারের অন্য যে কোনো সাধারণ বোমার চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী, যা বিস্ফোরণের এলাকায় যে কারো ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। এই বোমা উচ্চ-তাপমাত্রার বিস্ফোরণ তৈরি করতে চারপাশের বাতাস থেকে অক্সিজেন শুষে নেয়। বিস্ফোরণ ঘটালে প্রচলিত বোমার তুলনায় শক্তিশালী শকওয়েভ তৈরি হয়। এই ধরনের অস্ত্র বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এবং বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে।

ভ্যাকুয়াম বোমা কীভাবে কাজ করে?

ভ্যাকুয়াম বোমাকে অ্যারোসল বোমা বা ফুয়েল এয়ার এক্সপ্লোসিভও বলা হয়। সাধারণত একটি জ্বালানির পাত্রে ২ ধরনের বিস্ফোরক চার্জ রেখে এই বোমা তৈরি করা হয়।

রকেট লঞ্চারের মাধ্যমে এই বোমা ছোড়া যায়, আবার বিমান থেকেও এটি ফেলা যায়। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করলে প্রথমে বিস্ফোরক চার্জ বোমার কনটেইনারের মুখ খুলে দেয়।

বোমায় থাকা দাহ্য বস্তু অ্যারোসলের মেঘের মতো আশেপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ধাপে সেই মেঘে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, তা একদিকে যেমন বিকট হয় অন্যদিকে এতে আশেপাশে বায়ুশুন্যতা তৈরি হয়। এতে মনে হবে ফুসফুস থেকে বাতাস যেন কেউ জোর করে বের করে নিচ্ছে।

এর আগে কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে?

১৯৬০-এর দশক থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমা বাহিনী ভ্যাকিউম বোমা ব্যবহার করেছে। আফগানিস্তানে গুহার মধ্যে অবস্থান নেয়া আল-কায়েদা যোদ্ধাদের আক্রমণে মার্কিন বাহিনী এই বোমা ব্যাবহার করেছে।

২০০০ সালে রাশিয়া চেচনিয়াতে এই বোমা ব্যাবহার করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমালোচনা করেছে।

সর্বশেষ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, সিরিয়াতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপরে হামলায় রুশ এবং সরকারি বাহিনী এই বোমা ব্যবহার করেছে।

ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে যদি ভ্যাকিউম বোমা ব্যাবহার করা হয় তাহলে সেখানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা হবে মারাত্মক ভয়াবহ।

এটি কতটা বিপজ্জনক?

হেলিয়ার জানান, থার্মোবারিক অস্ত্রগুলোর প্রাথমিকভাবে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ধ্বংস করার মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো। এটি যেকোনো অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স বা অন্যান্য বিল্ডিং ধ্বংসের ক্ষেত্রেও একটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এই অস্ত্রের ব্যবহার বেআইনি নয় যদিও এর প্রভাব বেশ ভয়ঙ্কর হতে পারে। কারণ এটি একটি ভ্যাকুয়াম তৈরি করে এবং মানুষের ফুসফুস থেকে বাতাস শুষে নিতে পারে।’

হেলিয়ার আশঙ্কা করছেন, রাশিয়ান কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে এই ভ্যাকুয়াম বোমার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ান কৌশল সম্পর্কে আমরা যা জানি তার মধ্যে একটি হলো-প্রয়োজনে তারা সবকিছু ধ্বংস করবে। ইউক্রেন দখলের ক্ষেত্রে তাই এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ রুশ সৈন্যরা এখনও দেশটির রাজধানী কিয়েভ এবং পূর্বের অন্যান্য বড় শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখনো অনেক ইউক্রেনীয় সেনা ও বেসামরিক নাগরিক শহরের ভবন ও বাংকারে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এই ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করার সম্ভাবনা আছে।’

ইউক্রেনে কি তা ব্যবহৃত হয়েছে?

ইউক্রেনের তরফ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা বিবিসি নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে যাচাই করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের সাথে এক বৈঠকের পর ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওকসানা মারকারোভা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘রাশিয়া আজ ভ্যাকিউম বোমা ব্যাবহার করেছে।’

ইউক্রেনের সীমান্তে অবস্থানকারী সিএনএন-এর একজন সংবাদদাতার ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার বেলগরদ শহরে টিওএস-ওয়ান নামে এক ধরনের রকেট লঞ্চার বহনকারী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা থারমোব্যারিক বোমা বহন ও নিক্ষেপে ব্যবহার করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও এই ধরনের ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে। টুইটারে এমনকি ভ্যাকিউম বোমার বিস্ফোরণের ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর কোনটিই নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০২ মার্চ ২০২২

Back to top button