ইউরোপ

রাশিয়ার ভান্ডারে কি পরিমান পারমাণবিক অস্ত্র আছে?

মস্কো, ০২ মার্চ – পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির পারমাণবিক ফোর্সকে ‘বিশেষভাবে সতর্ক’ থাকার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মূলত উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, তার এ হুমকি মূলত অন্য দেশগুলোর জন্য, যেন তারা ইউক্রেনে নিজেদের বেশি সম্পৃক্ত না করে। এটি পারমণাবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত নয়।

বিশ্বে প্রায় ৮০ বছর ধরে টিকে আছে পারমাণবিক অস্ত্র। একে বহু দেশ ‘জাতীয় নিরাপত্তা কবচ’ বলে মনে করে। খবর বিবিসির।

রাশিয়ার ভান্ডারে পারমাণবিক বোমা

পারমাণবিক বোমার সংখ্যা নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় তার সবই অনুমানভিত্তিক।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার হাতে রয়েছে পাঁচ হাজার ৯৭৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। তবে এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ এর মতো ওয়ারহেড নষ্ট করে ফেলা হবে। কারণ এগুলোর মেয়াদ ফুরিয়েছে।

হাতে থাকা বাকি সাড়ে চার হাজার বা তারও বেশি ওয়ারহেড কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা বহু দূরের অবস্থানেও হামলা চালাতে সক্ষম।

আর বাকিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে বা সমুদ্রে স্বল্প-পরিসরে ব্যবহারের জন্য ছোট, কম ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র।

তবে এর অর্থ এই নয় যে— রাশিয়ার হাতে ছোড়ার জন্য প্রস্তুত হাজার হাজার দূর-পাল্লার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এক হাজার ৫০০ এর মতো রুশ ওয়ারহেড সামরিক ঘাঁটি অথবা সাবমেরিনে মোতায়েন করা আছে।

কত পারমাণবিক অস্ত্র আছে বিশ্বে

এ পর্যন্ত বিশ্বে নয়টি দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দেশগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ভারত।

এসব দেশের মধ্যে রাশিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি পাঁচ হাজার ৪২৮টি পারমাণবিক অস্ত্র। এর পর ফ্রান্সের হাতে রয়েছে ২৯০টি, চীনের হাতে ৩৫০টি, যুক্তরাজ্যের হাতে ২২৫টি, পাকিস্তানের কাছে ১৬৫টি, ভারতের কাছে ১৬০টি, ইসরায়েলের কাছে ৯০টি ও উত্তর কোরিয়ার কাছে ২০টি।

এ দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল কখনও তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। তবে দেশটির পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে মনে করা হয়।

পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এনপিটিতে সই করেছে। চুক্তি অনুসারে, সদস্য দেশগুলোকে ওয়ারহেড কমাতে হবে।

এদিকে ইউক্রেনের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবুও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। যদিও পরমাণু অস্ত্র অর্জনের জন্য ইউক্রেনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে দেশজুড়ে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।

৭ম দিনে গড়ানো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে ছয় হাজারের মতো রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।অপরদিকে রুশ হামলায় ইউক্রেনের দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় জরুরি পরিষেবা।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০২ মার্চ ২০২২

Back to top button