ব্যবসা

ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে

ঢাকা, ০১ মার্চ – সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে গত ১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্সে এসেছে দেশে। আর গত বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে ১৬ শতাংশ কম। গত মাসে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময়হার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

টানা ৫ মাস কমার পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কিছুটা বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ফের কমেছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২২ সালের প্রথম দিন থেকে সরকার রেমিট্যান্সপ্রবাহে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করেছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল এই সূচকে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হওয়ায় ওই সব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছিল। ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ায় এই প্রবাহ কিছুটা কমেছে। সামনের মাসগুলোতে বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাতেন তিনি ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২২ সালের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ পাঠিয়েছেন।

আগের মাস জানুয়ারিতে পাঠিয়েছিলেন ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার; ডিসেম্বরে এসেছিল ১৬৩ কোটি ডলার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১৭৮ কোটি ডলার।

তবে বছরের শেষ পাঁচ মাস ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পরও ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি (২২.০৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ১ হাজার ৩৪৪ কোটি (১৩.৪৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ৭২ লাখ (১৬.৬৮ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের এই আট মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৩২৪ কোটি ৭১ লাখ ডলার।

বাজর সংশ্লিষ্টরা বলছেন ব্যাংক রেটের চেয়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশ বেশি হওয়ায় সম্ভবত হুন্ডির মাধ্যমেও কিছু রেমিট্যান্স আসছে। সে কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম দেখা যাচ্ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০১ মার্চ

Back to top button