ইউরোপ

বেলারুশ থেকে ইউক্রেনে মিসাইল হামলা, বিমান ধ্বংস

কিয়েভ, ২৮ ফেব্রুয়ারি – বেলারুশ থেকে ইউক্রেনের উত্তর দিকে একটি মিসাইল ছোড়া হয়েছে। এমন দাবি করেছিলেন ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মিসাইলটি জাইটোমির শহরের একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টা অ্যান্টন হেরাশেঙ্কো টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান ফ্যাসিস্টদের ছোড়া একটি মিসাইল জাইটোমির বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। এতে ‘ইউক্রেনের তৈরি’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো উড়োজাহাজ আন্তোনভ এএন-২২৫ ‘ম্রিয়া’ ধ্বংস হয়েছে।

রোববার ইউক্রেনের জাতীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানি ইউক্রোবোরোনপ্রোমের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

কোম্পানিটি তাদের ফেসবুক পেজে লিখেছে, রাশিয়ান দখলদাররা ইউক্রেনিয়ান এভিয়েশনের ফ্ল্যাগশিপ এএন-২২৫ ম্রিয়া ধ্বংস করে দিয়েছে। কিয়েভের কাছাকাছি হোস্তোমিল বিমানবন্দরে এটি ধ্বংস হয়।

ইউক্রোবোরোনপ্রোম বলছে, কার্গো উড়োজাহাজটি মেরামতে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হবে। সময় লাগবে পাঁচ বছরেরও বেশি। এর মেরামতের খরচ রাশিয়ার দেওয়া উচিত।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা টুইটে লিখেছেন, এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ এএন-২২৫ ম্রিয়া (ইউক্রেনীয় ভাষায় এর অর্থ স্বপ্ন)। রাশিয়া হয়তো আমাদের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে। তবে শক্তিশালী, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইউরোপীয় রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের স্বপ্নকে তারা কখনো ধ্বংস করতে সমর্থ হবে না। আমরা জয়ী হবো।

এএন-২২৫ ১৯৮৫ সালে তৈরি, প্রথমবার ১৯৮৮ সালে এটি ওড়ানো হয় । এতে ৩০টির বেশি চাকা, ছয়টি ইঞ্জিন ও ২৯০ ফুটের পাখা ছিল। আনলোডেড অবস্থায় এয়ারক্র্যাফটির রেঞ্জ ১৫ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, লোডেড অবস্থায় ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এর নাম ম্রিয়া, ইউক্রেনিয়ান ভাষায় যার অর্থ ড্রিম বা স্বপ্ন।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ান সামরিক অভিযানের চতুর্থ দিন চলছে। দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এখন পর্যন্ত দেশটির চারটি শহর দখল করেছে রাশিয়া।

এদিকে চলমান সংকটের সমাধানে রুশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বেলারুশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সহযোগী এ তথ্য জানিয়েছেন। আলোচনায় সাড়া দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৮ ফেব্রুয়ারি

Back to top button