ইউরোপ

ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের ৯ মাস আগের সেই টুইট ভাইরাল

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে দেশটির বেসামরিক বাসিন্দাদের অবস্থা টালমাটাল। প্রতিমুহূর্ত আশঙ্কায় কাটছে তাদের দিনগুলো।

প্রাণভয়ে ইতোমধ্যে পাশের দেশে পালিয়েছেন অনেকেই। কেউবা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ঘুরছেন। রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা ঘরেই স্বেচ্ছাবন্দি, প্রার্থনায় দিন গুনছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ৯ মাস আগের একটি টুইট।

গত বছরের মে মাসে ইসরাইলের উপর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অব্যাহত রকেট হামলার সময় ওই টুইটটি করেন জেলেনস্কি।

হামাসের হামলায় ইসরাইলের সাধারণ জনগণের দুঃখ-ভোগান্তির বিষয়টি তাকে আহত করে। সে কথা জানিয়ে টুইটে হামাসের রকেট হামলার প্রতিবাদ করে তা বন্ধ করতে বলেন জেলেনস্কি।

২০২১ সালের ১২ মে ওই টুইটে হ্যাসট্যাগ ইসরাইল দিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কি লেখেন, ‘#ইসরাইলের আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রে পরিপূর্ণ। কয়েকটি শহরে আগুন লেগেছে। ভুক্তোভোগী আছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। অনেক মানবিক ট্র্যাজিডি ঘটছে। শোক এবং দুঃখ ছাড়া এসব দেখা অসম্ভব। জনজীবনের স্বার্থে অবিলম্বে এ উত্তেজনা বন্ধ করা প্রয়োজন।’

ওই টুইটে হাসিমউল্লাহ বেগ নামে এক পাকিস্তানি রিটুইট করেন। তিনি লেখেন, ‘একবার কৌতুক অভিনেতা, সবসময় একজন কৌতুক অভিনেতাই। যখন রুশ জেট কিয়েভ, খারকিভ এবং ওডেসা ধ্বংস করতে শুরু করবে তখন আপনি এটি কঠিন উপায়ে টের পাবেন।’

হাসিমউল্লাহর সেই টুইটের বক্তব্যই এখন বাস্তবে চলছে। হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জেলেনস্কি।

হাসিমউল্লাহর রিটুইট এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। হাসিমউল্লাহ র্মূলত দীর্ঘসময় ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনে বিপর্যস্ত বাসিন্দাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন জেলেনস্কিকে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের চতুর্থ দিন চলছে। শনিবার সকাল থেকে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় রাস্তায় তুমুল লড়াই শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

কিয়েভের ত্রোইয়েশনিয়া ও ময়দান স্কয়ারের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ সবচেয়ে বেশি জোরালো ছিল। সারা দিনই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিয়েভে রাশিয়ার কামান হামলার শব্দ এত বেশি যে, শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরেও শব্দ শোনা যাচ্ছে। শহরের চিড়িয়াখানা ও শুলিভাকা এলাকায় অর্ধশতাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে। কিয়েভের পেরেমোহি অ্যাভিনিউয়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ভাসিলকিভের একটি বিমানঘাঁটির কাছে প্রচণ্ড লড়াই হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রুশ সেনারা কিয়েভে হামলায় এই ঘাঁটি ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

এন এ/ ২৭ ফেব্রুয়ারী

Back to top button