ক্রিকেট

এই জয় প্রধান নির্বাচক নান্নুর কাছে অনেক বড় স্বস্তির

চট্টগ্রাম, ২৪ ফেব্রুয়ারি – এমন নয় ঘরের মাঠে আগে কখনো আফগানদের কাছে হারেনি টাইগাররা। ইতিহাস জানাচ্ছে, ৮ বছর আগে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে এই আফগানিস্তানের কাছে ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেটাই ছিল দু’পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডে।

হারের উপক্রম হয়েছিল। ২১৬ রানের মাঝারি মানের টার্গেট সামনে নিয়ে ৪৫ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে হারের রাস্তায় চলে গিয়েছিল তামিমের দল।

সেখান থেকে আফিফ হোসেন ধ্রুব আর মেহেদি হাসান মিরাজের অতি মানবীয় ব্যাটিংয়ে অবশেষে দারুণ এক জয় ধরা দিল।

এ জয় কি শুধুই আনন্দের? নাকি স্বস্তিরও? বিশেষ করে নানা কারণে ব্যাকফুটে থাকা, সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া নির্বাচকদের জন্য আজকের জয় কতটা স্বস্তির?

সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে পর্যদুস্ত হওয়ার থেকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এ জয়কে কিভাবে দেখছেন? তার এবং তার সতীর্থদের জন্য আজকের জয় কি অনেক বড় স্বস্তির?

বুধবার রাতে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হলে নান্নুর জবাব, ‘যে কোনো জয় সবার জন্য স্বস্তির। শুধু নির্বাচকদের জন্য কেন! ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এ জয় খুশির এবং স্বস্তির। বিপর্যয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতাটা অবশ্যই কৃতিত্বের এবং আমি বিশ্বাস করি সামনের দিকে এগুতে হলে এ জয় অনেক সাহস জোগাবে।’

এ জয়কে ‘অবিশ্বাস্য’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘আফিফ ও মিরাজের ব্যাটিং আজ যারা দেখেছেন তাদের সবার এ নৈপুণ্য চিরদিন মনে থকবে।’

বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন খেলা শেষে বলেছেন যে, ‘আফিফ ও মিরাজের এই ম্যাচে খেলা নিয়েই সংশয় ছিল।’ এ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচক অবশ্য কোন কথা বলতে রাজি হননি। তার ব্যাখ্যা, ‘আমি এ নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।’

আফিফ আর মিরাজ এমন কী করেছেন? তাদের ব্যাটিংয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল? তা জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘সবচেয়ে বড় কথা, বিপদে তারা সাহস হারায়নি। ধৈর্যচ্যুতিও ঘটেনি। একদম মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাটিং করেছে। এসব অবস্থায় বিপর্যয় এড়াতে অনেক সময় ব্যাটাররা বেশি শট খেলতে চায়। খুব দ্রুত কিছু শট খেলে স্কোর বোর্ডটাকে একটু চাঙ্গা করতে চায়; কিন্তু মিরাজ আর আফিফ তা করেনি। কিছু শট খেলে অতি দ্রুত রান করে ফেলার চিন্তাই ছিল না মাথায়। তারা ঠান্ডা মাথায় বেশিরভাগ বল খেলেছে। শটের দিকে যায়নি। তখন চাপের মুখে যদি শটের দিকে যেত, রানের চিন্তা করতো- তাহলে অন্য কিছু হতে পারতো। ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় লম্বা সময় ব্যাটিং করে গেছে দু’জন। যাতে করে প্রেসারটাও গেছে কমে।’

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৪ ফেব্রুয়ারি

Back to top button