আইন-আদালতজাতীয়

চুড়িহাট্টা ট্রাজেডি: তিন বছরেও শুরু হয়নি বিচারকাজ

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি – আজ থেকে তিন বছর আগে এ দিনে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। পুরো দেশ ছেয়ে গিয়েছিলো শোকে। সেদিনকার আগ্নেয়গিরির রূপ আজও গায়ে কাটা দেয়। সেদিনের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। তবে এখনো শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম।

অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন ইটবালিতে চুড়িহাট্টার চারতলার হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনের ক্ষতগুলো সংস্কার হয়েছে। তবে ওই ভবনের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের স্বজন এবং দুর্ঘটনায় বেঁচে থাকা মানুষেরা বিভীষিকাময় জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মনের ক্ষতগুলো আজও শুকায়নি।

হাজিওয়াহিন ম্যানশনে আগুন লাগার পর তা বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফ্লোরে থাকা লাইটারের গ্যাস, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন কেমিক্যালের টিউব ছিটকে আশপাশের ভবনে চলে যায়। এতে দ্রুত চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার ১৪ ঘণ্টা তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেদিন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬৭। পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭১ জনে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো বিচার শুরু হয়নি। তবে সম্প্রতি মামলাটির চার্জশিট দাখিল করায় খুব শীঘ্রই বিচার শুরু হবে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

মামলাটি তদন্ত করে প্রায় তিন বছর পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াহেদ ম্যানশন ভবনের মালিক দুই ভাইসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা চশবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল কাইউম। আগামী ২৩ মার্চ চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন – ভবনের মালিক দুই সহোদর হাসান ওরফে হাসান সুলতান, সোহেল ওরফে শহীদ ওরফে হোসেন, রাসায়নিকের গুদামের মালিক ইমতিয়াজ আহমেদ, পরিচালক মোজাম্মেল হক, ম্যানেজার মোজাফফর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাওয়াদ আতির, মো. নাবিল ও মোহাম্মদ কাশিফ। এরা সবাই জামিনে আছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আসিফ জানান, নির্মমভাবে ৭১ জন মানুষ নির্মমভাবে পুড়ে মরার তিন বছর হয়ে গেল। এইদিন এলে পাবলিসিটি করার জন্য সবাই যোগাযোগ করে। অন্য সময় কেউ আর খোঁজ-খবর নেয় না। যাই হোক শুনেছি মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু বিচার যেন হয়। আদালত যে বিচার করবে আমরা সেটাই মেনে নেব।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের হারিয়ে আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। অনার্স-মাস্টার্স করা দুই ভাইয়ের জন্য একটা সরকারি চাকরির জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি। কিন্তু কিছুই হলো না। সরকার যেন আমাদের বিষয়টা একটু সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখেন। তা হলে আমরা একটু ভালো থাকতে পারতাম।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তফা পাঠান ফারুক বলেন, কেউ কি ইচ্ছে করে নিজের ভবনে আগুন লাগাতে চাই। এতে তো তাদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওনারা বলির পাঠা হয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তথ্য উপাত্ত যা আছে তাই দিয়ে তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, মামলায় ৮ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। চার্জশিট গ্রহণ, চার্জগঠন এরপর মামলার বিচার শুরু হবে। চার্জগঠন হয়ে গেলে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষ কাজ করে যাবে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদ তাদের চতুর্থ তলার বসতবাড়ির বিভিন্ন ফ্লোরে দাহ্য পদার্থ ক্রয় বিক্রয়কারীদের কাছে আর্থিকভাবে লাভবানের আশায় তারা ভাড়া দেন।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Back to top button