চাপাইনবাবগঞ্জ

ভাইরাল সেই ‘সোহেল’ মূলত প্রতারক ‘বকুল’, প্রতারণার গল্প শোনালেন প্রথম স্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৯ ফেব্রুয়ারি – ভালোবাসা দিবসে গণমাধ্যম সোহেল-রওশন দম্পতির ভালোবাসার খবর প্রচার করে। সেখানে দেখা যায় শারীরিক প্রতিবন্ধী রওশন আক্তার প্রায় ১৫ বছর ধরে স্বামী সোহেল মিয়ার পিঠে চড়েই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। মূহূর্তেই সকল যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এ প্রতিবেদনটি।

এ প্রতিবেদন দেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের এক নারী সোহেল মিয়াকে তার নিখোঁজ স্বামী বলে দাবি করেছেন। ওই নারীর নাম শুরাতন বেগম। তার বাড়ি উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে।

শুরাতন বেগম দাবি করেন, প্রতিবেদনে ব্যক্তিটির নাম সোহেল মিয়া বলা হলেও তার মূলত স্বামীর নাম মোখলেছুর রহমান (বকুল)। একই ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বকুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১৯৯২ সালে। এরপর ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে তার স্বামী আর ফেরেনি। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আর খোঁজ পাওয়া যায়নি তার।

শুরাতন বেগম বলেন, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তিনি তখন থেকেই অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। আমি আর তাকে ফিরে পেতে চাই না, তবে আমার স্বামী যে প্রতারণা করেছে তা সবাই জানুক। বকুল পালানোর সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে আমার জমি জায়গা বিক্রি করে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছিলো। সেই ঋণের টাকা দিতেই আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি।

শুরাতন বেগমের বড় ছেলে সিহাব উদ্দীন বলেন, বাবাকে ফেসবুক, টিভি দেখে চিনতে পেরেছি। তিনি বলেন এতদিন জানতাম বাবা নিখোঁজ। তার বাবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। প্রচার করা হয়েছে সেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে। সেটিও মিথ্যা কথা। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। এমনকি তার নাম মোখলেছুর রহমান বকুল। এসময় কিভাবে তিনি সোহেল মিয়া হলেন, আইডি কার্ড কিভাবে করলেন সেই বিষয়গুলো দেখতে অনুরোধ করেছে সিহাব।

এখন তারা কী চান জানতে চাইলে সিহাব বলেন, আমরা কিছুই চাই না। তবে যে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে দেশবাসীকে সেটাই জানাতে চাই। তিনি আমার বাবা হলেও বলতে হচ্ছে তিনি মিথ্যাবাদী। সবার সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তিনি সেবা করতে সেখানে যাননি, লুকিয়ে থাকতে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, আমরা ছোট থেকেই মোখলেছুর রহমান বকুলকে চিনি। ফেসবুকে আমি বকুলকে দেখে চিনতে পেরেছি। আমরা গত ১৫ বছর আগে থেকে জানতাম বকুল পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় আছে। আর এখন এ ঘটনা জানতে পেরেছি। বকুল অনেক বড় একটা প্রতারক। তার বিচার হওয়া দরকার।

তবে সোহেল মিয়ার বর্তমান স্ত্রী ত্রিশালের রওশন এ বিষয়ে বলেন, স্বামীর প্রথম বিয়ের বিষয়ে আমি জানি। তবে ওই বিয়ে নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার সংসার নিয়ে আমি সুখী। স্বামীর ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ। ওনার প্রথম স্ত্রী যদি ফিরে আসেন, তাহলে দুই বোন মিলে সংসার করবো।

এদিকে প্রথম বিয়ের কথা স্বীকার করে সোহেল মিয়া বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রথম বিয়ে করি। আগের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের ছেড়ে আসি। ওদের সঙ্গে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোবাইলে যোগাযোগ ছিলো। তবে সম্পর্ক ভাল ছিল না। ফোন করলেই ওরা গালাগালি করত। পরে ওই বছর স্ট্রোক করার পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।

পড়াশুনার মিথ্যাচারের বিষয়ে সোহেল বলেন, আমি এসএসসিও পাস করিনি। সাংবাদিকরা আমার বাড়িতে আসার পর পরিচিত একজন লেখাপড়ার বিষয়টি মিথ্যা বলার জন্য শিখিয়ে দিয়েছিলো। তাই আমি মিথ্যা কথা বলেছিলাম। এ সময় তিনি মিথ্যা কথা বলার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চান।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Back to top button