বাগেরহাট

বাগেরহাটের রামপালে ১৭৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

আবুল হাসান

বাগেরহাট, ১৮ ফেব্রুয়ারি – বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মোট ২২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও শহীদ মিনার নেই। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পরও এতগুলো প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকার বিষয়টিকে সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, উপজেলার ২২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি কলেজ, পাঁচটি ডিগ্রি মানের মাদ্রাসা, দুটি আলিম মাদ্রাসা, ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২০টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। ১২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টিতে শহীদ মিনার আছে। ১০৬টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।

২০টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। তিনটি সরকারি কলেজের মধ্যে রামপাল সরকারি কলেজে শহীদ মিনার থাকলেও, সেটা রয়েছে অযত্ন ও অবহেলায়। ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টিতে শহীদ মিনার আছে। বাকি ২০টিতে নেই। আলিম মাদ্রাসার দুটির কোনোটাতেই শহীদ মিনার নেই। দাখিলের ১০টির মাদ্রাসার মধ্যে কোনোটায় নেই শহীদ মিনার। পাঁচটি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা একটিতেও শহীদ মিনার নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক বলেন, ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর ও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা সংশ্লিষ্টদের চরম গাফিলতি ছাড়া কিছু নয়।

উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমরা হতাশ। আমাদের মাতৃভাষাকে বিশ্ববাসী স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু কেন এতে বছরও শহীদ মিনার নিয়ে কথা বলতে হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানাই।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান ‘শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষা তথা মাতৃভাষার চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘শহীদ মিনার না থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করবো। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে।’

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‌‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য পাঠিয়েছি।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ১৮ ফেব্রুয়ারি

Back to top button