জাতীয়

বিজয় দিবস থেকেই সংবিধান কার্যকরের সিদ্ধান্ত

উদিসা ইসলাম

ঢাকা, ০৩ নভেম্বর- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হবে বলে গণপরিষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। ৩ নভেম্বর সংবিধানের ১৫৩নং অনুচ্ছেদ গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষদ সদস্যরা তুমুল হর্ষধ্বনি করে ওঠেন।এই অনুচ্ছেদের বিধান বলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান বলবৎ হবে। এইদিনে গভীর রাত পর্যন্ত অধিবেশন চলে। গণপরিষদের গভীর রাতে সংবিধান বিলের দফাওয়ারী আলোচনা তথা দ্বিতীয় পাঠ সমাপ্ত হয়। এর আগে রাত বারোটায় খসড়া সংবিধানের সর্বশেষ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত গৃহীত হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তফসিলের ওপর আলোচনা শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলেছিল। গৃহীত হয় ১৫৩নং অনুচ্ছেদ। এই দিনের অধিবেশনে মোট ৮৪ অনুচ্ছেদ গৃহীত হয়। রাত সাড়ে নয়টায় গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হলে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে খসড়া সংবিধানের দ্বিতীয় পাঠে সংবিধানের দফা আলোচনা শেষ করার চেষ্টায় গতকালই প্রথম গণপরিষদ রাত্রিকালীন অধিবেশনে মিলিত হয়। এর আগে দিনের বেলা গণপরিষদ ২ ঘণ্টার জন্য অধিবেশনে মিলিত হয় এবং সংবিধান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। পরের দিন সংবিধানের তৃতীয় পাঠ অনুষ্ঠিত হবে এবং সংবিধান চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে।

৪ নভেম্বর ইত্তেফাকবিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত

খসড়া সংবিধানের বহু বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদটি এই দিনে গণপরিষদের অধিবেশনে সংশোধন করা হয় এবং তা পরিষদ কর্তৃক সংশোধিত আকারে গৃহীত হয়। নোয়াখালীর নুরুল হক এই সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করেন। সংশোধিত আকারে গৃহীত ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনও ব্যক্তি কোনও নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর তিনি যদি সেই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সেই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন তাহলে সংসদের আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার অযোগ্য হবেন না। উল্লেখযোগ্য যে, সংশোধিত আকারে গৃহীত হওয়ার পূর্বে খসড়া সংবিধানের মূল ৭০ অনুচ্ছেদে যুক্ত ছিল, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর তিনি যদি সেই দল হতে পদত্যাগ করেন বা বহিষ্কৃত হন তাহলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফার বিধান অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা হবে।

বাংলাদেশ অবজারভারতিনশত পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ফেরতের সিদ্ধান্ত

তিনশত পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দি ও বেসামরিক লোকদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি নিয়ে তিনশত মহিলা ও শিশুসহ অসুস্থ পাকিস্তানের সামরিক, আধা-সামরিক লোকজনকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের স্বদেশ পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাকজাতিসংঘে সদস্যভুক্তিতে বাংলাদেশের হয়ে কানাডার প্রচেষ্টা অব্যাহত

বাংলাদেশ যাতে জাতিসংঘের আইনগত অধিকার কায়েম করতে পারে তার জন্য কানাডা জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার গর্ডন জর্জ রিডেল এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটক বাঙালিদের আনতে তারা তাদের সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন যে, এই মানবিক সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তারা জাতিসংঘেও বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে। ইতিপূর্বে কানাডা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও কারিগরি যে সাহায্য প্রদান করেছে সে সম্পর্কে বিবরণ দেন রিডেল।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
আডি/ ০৩ নভেম্বর

Back to top button