ক্রিকেট

টেস্ট নিয়ে ‘বিশেষ’ চিন্তা সাকিবের

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি – জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ থেকে সাকিব ছুটি নিয়েছিলেন। মার্চ-এপ্রিলে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতে দুটি টেস্ট এবং তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে।

এক দিনের ম্যাচে খেলার আগ্রহ থাকলেও সাকিবকে পাওয়া যাবে না দুই টেস্ট ম্যাচে।

বিসিবিকে এমনটাই জানিয়েছেন সাকিব। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য দিতে রাজি নন। এর পেছনে বড় কারণও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ যে সময় টেস্ট খেলবে সে সময় অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। এখনও দল চূড়ান্ত না হলেও আইপিএল-এর মেগা নিলামে সাকিব অবিক্রিত থাকার কথা নয়।

নিলামের আগে আইপিএল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়, কোন খেলোয়াড়কে কোন সময়ে পাওয়া যাবে। বিসিবি জানিয়েছে, ৮ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে সাকিবকে আইপিএল পাবে না। কারণ ওই সময় দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ দেশের মাটিতে সাকিব টেস্ট সিরিজে থাকবেন কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি থাকবেন ‘ছুটিতে’। বিসিসিআই-এর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোয় বিসিবির অনাপত্তিপত্রও (এনওসি) নিশ্চিত হয়েছে তার জন্য।

ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের হাত ধরেই এই ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে অজানা কারণে তিনি নিশ্চিত করতে চাইলেন না। ‘সাকিব দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে। ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। খুব সম্ভবত টেস্ট সিরিজে খেলবে না।’ বলেন তিনি।

জালাল ইউনুসের তথ্য গোপন রাখার পেছনে একটা বড় কারণ হতে পারে- গত বছর দেশের খেলা বাদ দিয়ে সাকিব গিয়েছিলেন আইপিএল খেলতে। বলেছিলেন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন আইপিএল খেলে। এজন্য তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন। ১২-১৩ এপ্রিল আইপিএল-এর নিলামে কী হয় সেদিকেও তাকিয়ে বিসিবি। নিলামে সাকিবের দল নিশ্চিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে চান সংশ্লিষ্টরা।

গত বছর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, সাকিব বেছে বেছে টেস্ট সিরিজ খেলবেন। তবে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাবেন। বিপিএল-এ সাকিব খেলছেন বরিশালের হয়ে। তার দলের কোচ জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ। তিনি জানালেন, সাকিব টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বিশেষ কিছু চিন্তা করছেন। এজন্য বোর্ডের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলবেন।

এ প্রসঙ্গে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমি তো চাই সাকিব খেলুক। কিন্তু ওর কিছু চিন্তা আছে, সেটা ও কয়েকদিনের মধ্যেই বোর্ডে জানাবে। ওয়ানডে সে খেলবে কিন্তু টেস্ট ম্যাচ খেলবে কিনা সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।’

ক্রিকেটের পাশাপাশি সাকিবকে ব্যবসা ও পরিবারকেও সময় দিতে হচ্ছে। জাতীয় দলের কমিটমেন্টের পাশাপাশি ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। সেক্ষেত্রে ওয়ার্কলোড কমাতে সাকিব বিশেষ কিছু চিন্তা করতেই পারেন। হতে পারে টেস্ট ক্যাপ তুলে রাখতে পারেন! তাতে ভুল কিছু হবে না নিশ্চয়ই।

ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যারা নিয়মিত খেলছেন এবং বড় তারকা, তারা পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য জাতীয় দল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১১ ফেব্রুয়ারি

Back to top button