নারায়নগঞ্জ

ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ, ১০ ফেব্রুয়ারি – নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের নানা তথ্যপ্রমাণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্বকী হত্যাকাণ্ডে তার বাবা রফিউর রাব্বিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে ওসমান পরিবারকে জড়িয়ে অভিযোগ আসছে বারবার। ওসমান পরিবারও এই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সমালোচকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

ত্বকী হত্যাকাণ্ডে তার বাবা রফিউর রাব্বিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে ওসমান পরিবারকে জড়িয়ে অভিযোগ আসছে বারবার।

নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ১০৭ মাসপূর্তিতে গত মঙ্গলবার এক কর্মসূচিতে তার বাবা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনিচ্ছার কারণে এবং তার নির্দেশে নয় বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ হয়ে আছে।

বৃহস্প‌তিবার দুপুরে ফতুল্লার নম পার্কে সদর উপজেলার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরব হন শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে ১০জন নি‌য়ে বক্তব্য দিয়ে আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যা নিয়ে দোকানদারি করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তথ্য প্রমাণসহ যতটুকু আমি জানি সংবাদ সম্মেলন করব।’

‘আমি দাবি করব, হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন ত্বরিৎ গতিতে হয়। আর যারা মানুষের জমি দখল করে খায়, ভূমিদস্যু, ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলে নাই টাকা দুর্নীতি করে বাড়ি বানান আর মহারাণী হয়ে সাজেন, পেছন থেকে চানকি দেন তাদের বলছি ধৈর্যের একটি সীমা আছে।’-যোগ করেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান এদিন বলেন, ‘আমি অচিরেই মূল তথ্য-প্রমাণসহ দ্রুত সবাইকে জানাব। আমাদের কর্মীরা সকলে ক্ষেপে আছেন, তাদের রাগ উঠে গেছে। তারা উত্তেজিত। বিভিন্ন সময়ে খারাপ কথা বলা হচ্ছে। আমাদের লোকজন প্রচণ্ড রাগান্বিত। তাদের বলছি ধৈর্য ধরে থাকেন। আগে সংবাদ সম্মেলনটি করি। তখন সব বলে দিব।’

ত্বকী হত্যাকাণ্ডের খসড়া চার্জশিট নিয়ে বিতর্ক ফের চাঙ্গা হয়েছে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘ত্বকী হত্যা মামলার বিষ‌য়ে একটা খসড়া চার্জশিটের কথা বারবার বলা হচ্ছে। র‌্যাবের যেসব কর্মকর্তারা এটা তদন্ত করেছিল তাদের প্রধান সাত খুন মামলায় এখন কারাগারে। মেজর আরিফ কার সঙ্গে কথা বলেছিল, কার সঙ্গে কন্ট্রাক করেছিল সবই আমি জানি। কিছু বলি না যে, আল্লাহর পথে চলে গেছি। ক্ষমাও করতাছি, ধৈর্য ধরতাছি। যদি আগের পথ বেছে নেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কেউ ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারবে না।’

শামীম ওসমান সমালোচদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কিছু করতে হবে না। জনগণই জবাব দিবে। কারণ জনগণের উপরে কারও কোন শক্তি নাই। তাই বলব, অত বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না, যাতে জনগণ ক্ষেপে না যায়। জনগণ ক্ষেপে গেলে সুখকর হবে না।’

শামীম ওসমান এসময় অভিযোগ করেন. তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ২০ জনকে হত্যার বিচার তিনি পাননি।

তিনি বলেন, ‘আমার পারভেজ ও মাকসুদকে যারা হত্যা করেছে সেটা আমি জানতে চাইব। তাদের মুখোশ সবাই জানে, এরা এখন সমাজপতি হওয়ার চেষ্টা করছে।’

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ১০ ফেব্রুয়ারি

Back to top button