জাতীয়দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশিরা কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই ভারত ভ্রমণ করতে পারবেন

নয়াদিল্লি, ১০ ফেব্রুয়ারি – করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাম মুছে দিয়েছে ভারত। নতুন নির্দেশনা অনুসারে, দেশটি ভ্রমণে বিদেশিদের আর সাতদিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না। শুধু পৌঁছানোর পর ১৪ দিন কিছুটা সতর্ক থাকলেই চলবে। ভারত সরকারের নতুন এ নিয়ম বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, তাদের নতুন ভ্রমণবিধি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে। তারা বলেছে, ক্রমাগত পরিবর্তনশীল করোনাভাইরাসের দিকে নজর রাখা দরকার। তবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুসারে, সব বিদেশি ভ্রমণকারীকে অবশ্যই আগের ১৪ দিনের ভ্রমণ বৃত্তান্তসহ ব্যক্তিগত তথ্যের একটি ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমটি ভারতের ‘এয়ার সুবিধা’ ওয়েব পোর্টালে পাওয়া যাবে।

সেখানে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় পাওয়া নেগেটিভ সনদ আপলোড করতে হবে। পরীক্ষা করাতে হবে ভ্রমণের আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। এর বিকল্প হিসেবে পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়ার সনদও আপলোড করা যাবে। তবে এই সুবিধা শুধু সেসব দেশের যাত্রীরা পাবেন, যাদের টিকাদান কর্মসূচিতে ভারত সরকারের স্বীকৃতি রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার, অস্ট্রেলিয়াসহ মোট ৮২টি দেশ রয়েছে।

ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এয়ারলাইন্সগুলো শুধু সেসব যাত্রীকে প্লেনে ওঠাবে, যারা ফরম পূরণ করেছে এবং করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ বা টিকাসনদ আপলোড করেছে। শুধু উপসর্গহীন যাত্রীদের প্লেনে ওঠানো যাবে। সেক্ষেত্রে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্বের বিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের বাড়তি থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাদের মধ্যে এলোমেলোভাবে নির্বাচিত ২ শতাংশ যাত্রীর আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা হবে। কোনো উপসর্গ দেখা যায় কিনা তার জন্য সব যাত্রীকে ১৪ দিন সতর্ক থাকতে হবে।

কারও শরীরে উপসর্গ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হবে এবং করোনা পরীক্ষা করা হবে। পজিটিভ শনাক্ত হলে তার সংস্পর্শে আসা লোকদেরও খুঁজে বের করা হবে।

সমুদ্র বা স্থলবন্দরগুলো দিয়ে প্রবেশকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। তবে সেক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধনের সুবিধা আপাতত নেই। এ কারণে বন্দরে থাকা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এসব তথ্য জমা দিতে হবে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পৌঁছানোর আগে বা পরে সব ধরনের পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন তাদের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৮ নভেম্বর ওমিক্রন সংক্রমণের মুখে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত সরকার। এসব দেশ থেকে যাওয়া ভ্রমণকারী বা ট্রানজিটগ্রহীতাদের ভারতে পৌঁছানোর পরপরই আরটি-পিসিআর টেস্ট করানো এবং এর ফলাফল আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার নিয়ম চালু করেছিল ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Back to top button