ক্রিকেট

সিডন্সের অন্তর্ভুক্তি, প্রিন্সের পদত্যাগ ও ডমিঙ্গোকে নিয়ে ধোঁয়াশা

সিলেট, ১০ ফেব্রুয়ারি – মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে দুই কোচ নিয়ে জানতে চাওয়া স্রেফ তার জন্য বিব্রতকরই হয়ে গেল বুঝি!

বুধবার দুপুরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল ঘোষণার পাশাপাশি নিজেদের কোচিং স্টাফের নাম প্রকাশ করে। তাতে শন টেইটের নাম দেখে চোখ ছানাবড়া! অস্ট্রেলিয়ার এই কোচ তো বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বিসিবিও তাকে বিবেচনা করে শর্ট লিস্টে রেখেছিল। কিন্তু টেইট আগেভাগেই প্রস্তাব পেয়ে যাওয়ায় বেছে নেন নিজের কর্মস্থল।

বিকেল গড়াতেই আরেক খবর। ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স পদত্যাগ করেছেন। কেন? শোনা গেল পারিবারিক কারণে। দুই খবর নিশ্চিত হতে মধ্য দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি ফোন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কাছে। পরপর দুই কোচ নিয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিব্রত ছিলেন জালাল।

দুপুরে সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা তাকে নিয়ে চিন্তা করছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত করিনি। ও নিজে বেছে নিয়েছে এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমরা শিগগিরিই নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করবো।’ বিকেলে প্রিন্সকে নিয়ে বলেছেন, ‘আমি একটু আগে মেইল পেয়েছি। পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট তেমন কিছু উল্লেখ করেননি, পারিবারিক কারণ বলেছেন আর কী।‘

তবে ব্যাটিং কোচ প্রিন্সের হঠাৎ পদত্যাগ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠল। কিছুদিন আগে ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফিরেছেন সাবেক প্রধান কোচ জেমি সিডন্স। ভূমিকা ঠিক না হলেও সিডন্স নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়দের দেখতে নিয়মিত মাঠে যাচ্ছেন। এসেছিলেন সিলেটেও। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নাকি পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পা রেখে পরদিন বিসিবির কয়েক পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেও তার ভূমিকা ঠিক হয়নি।

‘আমি নিজেও আমার ভূমিকা সম্পর্কে অবগত নই। কি কথা বলবো? বোর্ডের কাছে জানতে পারবে।’- সিলেট স্টেডিয়াম দেখে মুগ্ধ হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে কথাগুলো বলছিলেন সিডন্স।

সিডন্সের যোগদানের কারণেই কি প্রিন্স সরে গেলেন? জালাল ইউনুস স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি, ‘বিস্ময়কর তো বটেই। আমরা তো বলছিলাম যে সে ফিরলে আমরা কথা বলে ভূমিকা ঠিক করব। আমাদের মূল দলে ছিল। এখানে যে রাখা হবে না, এমন কিছু তো চূড়ান্ত হয়নি। সে ফিরলে আলোচনা করতাম। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।’

বিসিবির পরিকল্পনা ছিল, সিডন্সকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দিয়ে প্রিন্সকে এইচপি দলের সঙ্গে যুক্ত করা। এজন্য তাকে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল ই-মেইলে। কিন্তু জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে এইচপি দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন তিনি। অবনমন মেনে নিতে না পেরে নিজ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি থাকলে আগেভাগেই তা ছিন্ন করলেন। তার পদত্যাগে সিডন্সের জাতীয় দলে দায়িত্ব নিতে আর বাধা থাকলো না।

এদিকে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আবার ঢাকায় আসবেন কিনা তা নিশ্চিত করতে পারছেন না কেউ। জালাল ইউনুস যেমন বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত নই কবে সে আসবে।’ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সব সময় যোগাযোগ করেন ডমিঙ্গো। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে গত দুদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জানতে চাওয়া হয়েছিল, ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় আসবেন কিনা?’

মেসেজ সিন করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি তার থেকে। একাধিক গণমাধ্যমও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে শোনা যাচ্ছে, জাতীয় দলে কাজ করার মতো পরিবেশ পাচ্ছেন না তিনি। বিশেষ করে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ড সিরিজে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে কাজ করায় অস্বস্তি, অস্বচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন।

আফগানিস্তান সিরিজের দল নিয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সেখানে নির্বাচক, কোচ ও অধিনায়ক থাকবেন। কিন্তু ডমিঙ্গো থাকবেন কিনা জানেন না সংশ্লিষ্টরা কেউ। তাহলে কি বাংলাদেশে ডমিঙ্গোর অধ্যায় শেষ হতে চলল?

ওটিস গিবসনের জায়গায় নতুন কাউকে এখনও নিয়োগ করতে পারেনি বিসিবি। প্রিন্সের জায়গায় সিডন্স আসছেন তা চূড়ান্ত হয়ে আছে। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই বাকি। রইলো বাকি ডমিঙ্গো। তার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১০ ফেব্রুয়ারি

Back to top button