জাতীয়

সমুদ্রে সম্পদ আহরণে ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি – সমুদ্রে সম্পদ আহরণে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রকল্পের বিষয়ে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মিয়ানমারের পর ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে। এই অংশে রয়েছে বিশাল সম্পদ। সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।

অর্থাৎ সমুদ্র থেকে আহরণকৃত যে সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তাই ব্লু -ইকোনমির বা সুনীল অর্থনীতির পর্যায়ে পড়বে। এই সম্পদ আহরণের জন্য ‘মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট (কমফ্লোট ওয়েস্ট) এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর ২০২১ হতে জুন ২০২৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ, ফিশিং ট্রলার ও বোট এবং ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত অন্যান্য মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা সুরক্ষা দেওয়া হবে। মোংলা নৌ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জাহাজসমূহের নিরাপদ বার্থিং, আবাসন, চিকিৎসা, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাদি নিশ্চিত করা হবে।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৮ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৪টি অনাবাসিক ভবন (৪৯৮৮৪ বর্গমিটার), ৫টি আবাসিক ভবন (২১৮৩৬.৩০ বর্গমিটার) ও ২৭টি অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো (৯৪৯৯৩.৬০ বর্গমিটার) নির্মাণ) উন্নয়ন করা হবে।

এছাড়া ৫৭ হাজার বর্গমিটার সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণ এবং ২৩ হাজার ৫০০ মিটার নিকাশ কাঠামো নির্মাণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে প্রকল্পটি। সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিরূপণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের মজুদ যাচাইকরণ ও সামুদ্রিক মাছের নিয়ন্ত্রিত আহরণ উৎসাহিতকরণের বিষয় বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১০ ফেব্রুয়ারি

Back to top button