শিক্ষা

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ফের আন্দোলনে শাবি শিক্ষার্থীরা

সিলেট, ১০ ফেব্রুয়ারি – সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ১৪ দিন পর আবার রাস্তায় নামলো শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেলের দিকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে কিলোসড়ক ধরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে চেতনা-৭১ প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ফরিদের গদি অস্তাচলে, ফরিদ যাবে রসাতলে’, ‘ফরিদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ কেন?’ সহ উপাচার্য বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। সে সময় আমাদের বলা হয়েছিল আমাদের বিভিন্ন দাবিগুলো মেনে নেয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও আমাদের দেয়া আশ্বাসগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়নের কোনো প্রচেষ্টা আমরা দেখতে পারিনি। এমনকি শিক্ষার্থীদের ওপর দেয়া দুটি মামলা এখনো ঝুলে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রায় আড়াই শ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেগুলোও চালু করা হয়নি। অন্যদিকে আমাদের এক দফা দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা অপসারণের ব্যাপারেও কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আমাদের কঠোর কর্মসূচিগুলো থেকে সরে আসার পরও ন্যূনতম দাবিগুলো পূরণ করা হয়নি। এ জন্য এত দিন পর আমরা আবার কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায়ের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবারও আমরা বিক্ষোভ মিছিল করব।’

উল্লেখ্য গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই সকল কর্মসূচির একপর্যায়ে গিয়ে ১৯ জানুয়ারি থেকে এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী। ২৪ জন থেকে বেড়ে সেই সংখ্যা ২৮হয় একসময়।

এরপর ২৬ জানুয়ারি সকালে শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক ও দেশের জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এরপর থেকেই অবরোধ ও অনশন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়ে অহিংস আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, নাটক, খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে নাদোলন অব্যাহত রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে ১৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১০ ফেব্রুয়ারি

Back to top button