জাতীয়

কাশিমপুর কারাগারে সিনহা হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ ও লিয়াকত

ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি – সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বহনকারী প্রিজনভ্যানটি কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৩১ জানুয়ারি আলোচিত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে তাদের কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের আনা হলো কাশিমপুরে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাইসিকিউরিটি পার্ট-৪ এর কনডেম সেলে তাদের রাখা হয়েছে।

২০২০ সালের ৬ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ব্যাপক আলোচনা ওঠার পর ওই বছরের ৬ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপ কারাগারে যান। পরদিন ৭ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী। তাদের দুজনই পুলিশ থেকে বরখাস্ত হন।

বোয়ালখালী উপজেলার সরোয়াতলী ইউনিয়নের ছেলে প্রদীপ ১৯৯৬ সালে এসআই পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। বিএনপি সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রদীপ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরিদর্শক থেকে ওসি পদটি বাগিয়ে নিতেও ওসি প্রদীপের খুব বেশিদিন সময় লাগেনি। ঘুরেফিরে চট্টগ্রামের সব থানাতেই ওসি পদে চাকরি করেছেন তিনি।

২০১২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পতেঙ্গা থানা, ২০১৩ সালে পাঁচলাইশ থানা এবং ২০১৫ সালে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন প্রদীপ কুমার দাস। তবে একটি থানাতেও তিনি স্বস্তিতে বিদায় নিতে পারেননি। প্রতিবারই হয় সাসপেন্ড অথবা প্রত্যাহার হয়েছে নানা অপরাধে জড়িয়ে। সব থানা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে কক্সবাজার। প্রথমে মহেশখালী থানা হয়ে টেকনাফ। তবে সিনহা হত্যার পর প্রদীপের ঠিকানা হয় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় কারাগারে।

প্রদীপের সঙ্গে প্রাণে দণ্ডিত সিনহা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বাড়িও চট্টগ্রামে। পটিয়া উপজেলার ছেলে লিয়াকত পুলিশের চাকরি পাওয়ার পর তার এলাকার মানুষের কাছেই মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবে প্রদীপের চেয়ে তার দাপট ছিল কিছুটা কম। তার বিরুদ্ধেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: ঢাকাটাইমস
এম ইউ/০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Back to top button