পশ্চিমবঙ্গ

দলের যে নেতারা নিজেদের বুথে জিততে পারেন না তাঁরা অপ্রয়োজনীয়: মমতা

বহরমপুর, ০২ নভেম্বর- এবার বহরমপুরে প্রকাশ্যে শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ।

বললেন, “দলে কিছু নেতা আছে যারা নিজেদের বুথেই ভোটে জিততে পারে না।” ওই তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, ওপর থেকে এমন কয়েকজনকে নেতা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যারা নিজেদের বুথে ভোটে জিততে পারে না।

তাঁর দাবি, ওইসব নেতার দলে কোনও প্রয়োজন নেই। গত কয়েকদিন ধরে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ যেন দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হয়ে গিয়েছে কয়েকজন তৃণমূল নেতাদের কাছে। এই তালিকায় রয়েছেন, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর কিছু মন্তব্য তোলপাড় ফেলেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

নন্দীগ্রামে বিজয়া সম্মিলনী সমাবেশে নাম না করে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের প্রতি রাজনীতিতে ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেছেন ,“আমি ১৯৯৫ সালে প্রথম ভোটে লড়ে অবিভক্ত কংগ্রেসের কাউন্সিলর হয়েছি। আমি প্যারাশুটে করে নামিনি, লিফটে করেও উঠিনি। আমি সিড়ি ভাঙতে ভাঙতে উঠেছি।”

রবিবার বিজয়া সম্মিলনীতে সেই একইরকম সুর শোনা গেল বারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্তর গলায়। তার বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে এদিন।

বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে শীলভদ্র বলেন, “আমি নীচ থেকে রাজনীতি করতে করতে উপরে উঠে এসেছি। সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে এসেছি। হঠাৎ করে কারও সন্তান, ভাই, শালা হিসেবে রাজনীতিতে আসিনি।

কোনও অর্থনৈতিক দুর্নীতিতেও জড়াইনি। দলের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে কিছু প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছিল। দলের নেতৃত্বকে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু কেউ কোনও ব্যবস্থা নেননি। তাই আর ভোটে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তবে দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকতে পারি। কর্মীদের তিনি জানান, তৃণমূলের হয়ে আর তিনি ভোটে দাঁড়াবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক দলীয় নেতাদের এভাবে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূলের। এদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “তৃণমূলে বড়সড় বিস্ফোরণ আসন্ন।”

বণ্যপ্রাণ রক্ষার জন্য লড়াই জারি এই বাঙালির। মুখোমুখি তিয়াসা আঢ্য।

সূত্র: কলকাতা২৪
আডি/ ০২ নভেম্বর

Back to top button