ক্রিকেট

আলাউদ্দিনের ঝড়েও রক্ষা হয়নি সিলেটের, মুশফিকদের রোমাঞ্চকর জয়

সিলেট, ০৮ ফেব্রুয়ারি – শেষ ওভারে জিততে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। কামরুল ইসলাম রাব্বীর বলে টানা তিনটি ছয় হাঁকিয়ে খুলনা টাইগার্সের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন আলাউদ্দিন বাবু। দুই ছয়ের পর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এসে পরামর্শ দেন রাব্বীকে। শেষ তিন বলে অবশ্য দুই রানের বেশি নিতে পারেনি সিলেট সানরাইজার্স। শেষ পর্যন্ত ১৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মুশফিকুরের দল।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩ উইকেটে ১৮২ রান করে খুলনা। রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৭ রান করে থামে সিলেট। এটিসহ ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট খুলনার। দলটি পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে সিলেটের পয়েন্ট মাত্র ৩। তাদের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে।

ব্যাটে বলে দারুণ পারফর্ম করে সৌম্য সরকার ম্যাচসেরার পুরষ্কার পেয়েছেন। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮২ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছে ২ উইকেট।

১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে সিলেটের শুরুটা হয়েছিল ধীরগতির। একদিকে এনামুল হক বিজয় রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে লেন্ডল সিমন্স বল খেয়ে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ১৭ বলে ১০ রান করে সিমন্স ফিরলে ভাঙে জুটি। বিজয় নতুন ব্যাটসম্যান ইনগ্রামকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন। এই জুটি থেকে আসে ২৭ বলে ২৯। বিজয় ৩৩ বলে ৪৭ রান করে ফিরলে ভেঙে যায় জুটি।

মাঝে মোহাম্মদ মিঠুন ২ ও রবি বোপারা ফেরেন ০ রানে। ইনগ্রাম বড় ইনিংসের সম্ভাবনা দেখালেও থেমে যান ২৮ বলে ৩৭ রান করে। ক্রিজে ছিলেন তখন মোসাদ্দেক হোসেন। হাতে উইকেট থাকলেও চাপে পড়ে যায় সিলেট। মোসাদ্দেক ২২ বলে ৩৯ রান করেও জয়ের কাছে নিয়ে যেতে পারেননি। শেষ ওভারে আলাউদ্দিনের টানা তিন বলে তিন ছয় শুধু রানের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। ৭ বলে ২৫ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন আলাউদ্দিন।

খুলনার হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন থিসারা পেরেরা ও সৌম্য সরকার। মাত্র ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বী।

এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে সৌম্য-মুশফিকের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর দিতে পেরেছিল খুলনা। ৬২ বলে ৪টি করে চার-ছয়ে ৮২ রান করে অপরাজিত ছিলেন সৌম্য। আর ৩৮ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৬২ রান কর করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম।

ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট হারায় খুলনা। আন্দ্রে ফ্লেচার ফেরেন ১ রানে। আর মেহেদি হাসান ফেরেন ০ রানে। এক প্রান্তে সৌম্য আগলে রেখেছিলেন। ইয়াসির আলী থিতু হয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। ১৮ বলে ২৩ রান করে ফেরেন পাওয়ার প্লে’র শেষ বলে।

এরপর শুরু হয় সৌম্য-মুশফিকুরের গল্প। দুজনে ১৪ ওভার ক্রিজে ছিলেন। চতুর্থ উইকেটের জুটিতে দুজনে ৮৪ বলে ১৩১ রান যোগ করেন। চতুর্থ উইকেটে বিপিএলে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। সর্বোচ্চ ১৫৩ রান এসেছিল মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসানের ব্যাট থেকে।

করোনা মুক্ত হয়ে ফেরার পর রানের দেখা পাচ্ছিলেন না সৌম্য। প্রথম ৩ ম্যাচে ১৪ রান করেন এই বাঁহাতি। এর আগের ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে ৪৩ রান করেছিলেন। অবশ্য সৌম্যর ফিফটি ছিল ধীরগতির। ৪৩ বলে দেখা পান ফিফটির। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ৩৬তম ফিফটি।

অন্যদিকে মুশফিকের ব্যাট ছিল চওড়া। ৪ চার ও ২ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি করেছেন ৩২ বলে। এই দুজনের ব্যাটে চড়ে বড় রানের লক্ষ্য দিতে পারে খুলনা।

এদিকে তৃতীয় ওভারেই বোপারা বল টেম্পারিং করায় ৫ রান জরিমানা গুণে সিলেট। সিলেটের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন সোহাগ গাজী ও একেএস স্বাধীন। তাসকিনের পরিবর্তে স্বাধীনকে দলে নেয় সিলেট।

অধিনায়ক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিলেটের পারফর্ম্যান্স যেন পরিবর্তন হবার নয়। নেতৃত্ব পেয়েই বল টেম্পারিং করে ৫ রান জরিমানা গুণেছেন বোপারা। এই হারের কারণে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে সিলেটের জন্য।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ০৮ ফেব্রুয়ারি

Back to top button