সংগীত

যে কারণে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর

মুম্বাই, ০৬ ফেব্রুয়ারি – ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর টানা ২৮ দিন ধরে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। আজ রোববার সকালে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার মৃত্যুতে আচমকাই যেন থমকে গেছে গোটা সুরের দুনিয়া। চারিদিকে এক নিশ্চিত নিস্তব্ধতা আর স্বজন হারানোর হাহাকার।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর। তার এই বিয়ে না করা নিয়ে আছে নানা ধরনের গুঞ্জন। ওড়িশা পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লতা প্রেমে পড়েছিলেন একবার। তার বড় ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের খুব কাছের বন্ধু মাহারাজা রাজ সিংয়ের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি।

জানা যায়, একবার লতার বাড়িতে চায়ের দাওয়াতে গিয়েছিলেন মহারাজ। সেখানেই প্রথম লতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারপর গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। রাজ লতাকে ভালোবেসে ‘মিঠু’ বলে ডাকতেন। মহারাজ সবসময় তার পকেটে একটা রেকর্ড প্লেয়ার রাখতেন যেখানে সবসময় লতার গাওয়া গানগুলো বাজতো।

রাজ তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। লতাকে বিয়ে করে সংসার পাততে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাদের বিয়েতে বাধ সাধেন রাজের পরিবার। তারা বলেন, কোনো সাধারণ মেয়েকে তারা তাদের পরিবারের পুত্রবধূ করবেন না। আবার রাজ লতাকে বলেন, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবেন না। মা-বাবা মেনে না নেওয়ায় রাজও থেকে গিয়েছিলেন অবিবাহিত।

অন্যদিকে লতা বলতেন, তিনি কখনো বিয়ে করবেন না। নিজের পরিবারের প্রতি তার অনেক দায়িত্ব আছে। তিনি তার পরিবারকে নিয়েই গোটা জীবন কাটাতে চান। তবে ধারণা করা হয়, তাদের দুজনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তারা কেউ কখনো অন্যকে বিয়ে করেনি।

উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে মধ্যপ্রদেশের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম লতা মঙ্গেশকর। ছোট থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা, তবে হিন্দি ছবির গান শুনতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকরের সবচেয়ে বড় সন্তান লতা, কৈশরে পা দিয়েই বাবা-কে হারান গায়িকা। ভাই-বোনেদের দায়িত্ব অভিভাবকের মতো পালন করেছিলেন ছোট্ট লতা।

এন এইচ, ০৬ ফেব্রুয়ারি

Back to top button