ঢালিউড

শিল্পী সমিতির নতুন ইতিহাস গড়লেন নিপুণ

ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচনে আপিল বোর্ডের রায়ে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চিত্রনায়িকা নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন। ৩৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার নারী সেক্রেটারি পেলেন চলচ্চিত্র শিল্পীরা।

১৯৮৪ সালে প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের ১১মে সভাপতি পদে ক্ষমতায় বসেন নায়করাজ রাজ্জাক এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। সেই থেকে আজ অবধি পুরুষরাই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে টানা তিনবার আহমেদ শরীফ, এরপর ইলিয়াস কাঞ্চন, মাহমুদ কলি, মাহবুব খান গুঁই, মাহমুদ কলি, টানা দুবার মিজু আহমেদ, ডিপজল, মান্না, রুবেল, মিশা সওদাগর, অমিত হাসান এবং সর্বশেষ টানা দুবার জায়েদ খান।

শিল্পী সমিতির ইতিহাসে প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দিত নিপুণ। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি দারুণ ব্যাপার। আমি খুবই আনন্দিত ৩৮ বছরের সমিতির ইতিহাস নতুনভাবে লিখতে পেরে। আশা করি ভবিষ্যতে হয়তো অন্য নারী শিল্পীরাও অনুপ্রাণিত হবেন।’

নিপুণ আরও বলেন, ‘আমি এই চেয়ারের জন্য নির্বাচনে আসিনি। আমি এসেছি শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে। খুব ভালো লাগছে এখন আমি শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে পারবো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবো।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন নির্বাচিত হলেও সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের জয়ী হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই জলঘোলা হচ্ছিল। নির্বাচনের পর থেকেই কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদ অভিযোগ করে আসছে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন জায়েদ খান। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ ফলাফল নিয়ে আপিল বোর্ডের কাছে অভিযোগ করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী নিপুণের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয় আপিল বোর্ডকে। সেই প্রেক্ষিতে আপিল বোর্ড আজ শনিবার রায় ঘোষণা করে। এই জয়ে এফডিসিতে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। চলচ্চিত্রের নানা সংগঠনের নেতাকর্মী ও সদস্যরা নিপুণকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

এন এইচ, ০৫ ফেব্রুয়ারি

Back to top button