বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রেকর্ড পতনের পরদিনই দুঃসংবাদ পেল ফেসবুক

স্যোশাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের ১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (ডিএইউএস) সংখ্যার রেকর্ড পতনের পরই বড় দুঃসংবাদ পেল প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীর সংখ্যা পতনের আঁচ এসে পড়ছে ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটার উপরও।

মেটা প্ল্যাটফর্ম জানায়, বৃহস্পতিবার তাদের স্টক মার্কেটের মূল্য ২৩০ বিলিয়ম মার্কিন ডলারের বেশি হ্রাস পেয়েছে। একটি মার্কিন সংস্থাটির জন্য দৈনিক ক্ষতির রেকর্ড বলে জানা গেছে।

ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মেটার লভ্যাংশ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। ধাক্কা খেয়েছে এই সংস্থার বিজ্ঞাপন ব্যবসাও। ফেসবুকের ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান বিনিয়োগকারীদের হতাশ করার পরে এর শেয়ারও ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। ফলে এক দিনে এই সংস্থার বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা কমেছে।

ফেসবুকের এই রেকর্ড পতনের পিছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ফেসবুকের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম বদল। মূলত মেটাভার্সকে ফোকাস করতে ফেসবুকের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে মেটা রাখা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি মেটাভার্স নির্মাণের ধারেকাছেও নেই। এই মুহূর্তে মেটাভার্স একটি অবাস্তব বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।

এছাড়া মেটাভার্সের ছিঁটেফোটা সুবিধাও সাধারণ ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন না বলে অনেকে জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধির দিন ফুরিয়েছে। ফেসবুক গত বছরের শেষ দুই ত্রৈমাসিকে প্রায় ১০ লাখ ব্যবহারকারীকে হারিয়েছে।

অনেকে আবার মনে করছে, সংস্থা নতুন ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারিয়েছে।

এদিকে, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে ফেসবুককে। তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেসবুক আগের মতো জনপ্রিয় নেই। তরুণ প্রজন্ম ফেসবুকের চেয়ে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিজ্ঞাপনদাতাও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। তাই আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফেসবুককে।

এন এইচ, ০৪ ফেব্রুয়ারি

Back to top button