শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিতে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী, ০২ ফেব্রুয়ারি – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ট্রাকচাপায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল নিহত হওয়ার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ৬ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মাণে নিয়োজিত এক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান রাবির গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হিমেল। হিমেল শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। দূর্ঘটনায় আরও আহত হন সিরামিক ও ভাস্কর্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান প্রামাণিক। তৎক্ষণাৎ তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসার পর শঙ্কামুক্ত হয় সে।

এরপরই রাবির শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে ভবন নির্মাণ কাজে নিয়োজিত থাকা ৫টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তারা উপাচার্যের বাসভবন এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে জড় হয়ে এই দূর্ঘটনা বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এতে আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তাদের আন্দোলনের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ।

এরপর রাত ১১ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আবারও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে দূর্ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। তাদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন মাহমুদ সাকি

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-

১. এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার করতে হবে।

২. ভুক্তভোগীর পরিবারকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়াও আহত দুজনের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।

৩. ভুক্তভোগীর পরিবার নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী হতে হবে।

৪. এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলমান নিরাপত্তাহীনতা, দূর্নীতি ও অনিয়মের বহিঃপ্রকাশ। ২৫ বার প্রক্টরকে ফোন দেয়া হলেও কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি এবং ঘটনাস্থলেও আসেননি। ঘটনার দায় প্রক্টরিয়াল বডি কোনোভাবে এড়াতে পারে না। এ ঘটনার দায় ঘাড়ে নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।

৫. নিহতের বাবা নেই। পরিবারে ছোট বোন ও মা আছে। মা অসুস্থ। তাই পরিবারের একজন সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিতে হবে।

৬. অবিলম্বে ঠিকাদার কোম্পানিকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে। ঠিকাদার কোম্পানি পরিবর্তন করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এসকল দাবির মুখে রাবির উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার জানিয়েছেন, আহত রায়হান এখন শঙ্কামুক্ত। ক্যাম্পাসে সকল ধরণের নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে। ট্রাক চালককে গ্রেফতার করা হবে ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০২ ফেব্রুয়ারি

Back to top button