ক্রিকেট

ফরচুন বরিশালের টানা দ্বিতীয় জয়

ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারি – অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অষ্টম আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ফরচুন বরিশাল।

সোমবার নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৬ রানে জয় পেয়েছে ফরচুন বরিশাল। নিজেদের ৫ ম্যাচ শেষে ৩ জয় ও ২ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয়স্থানে অবস্থান করছে বরিশাল। সমানসংখ্যক ম্যাচে ২ জয় ও ৩ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চমস্থানে রয়েছে খুলনা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারের আগে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করে বরিশাল। জবাবে ১৪৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান করে খুলনা টাইগার্স। ফলে ৬ রানিরে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে মুশফিকের দল।

এর আগে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের সাথে ডোয়াইন ব্রাভোকে ইনিংস শুরুতে পাঠায় বরিশাল। প্রথম ওভারে ১ রান আসলেও, পেসার খালেদ আহমেদের দ্বিতীয় ওভারের শুরুতেই দু’টি চার মারেন ব্রাভো। তবে তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৫ বলে ৯ রান করা ব্রাভো।

নিজের চতুর্থ ওভারে বরিশাল শিবিরে আবারও ধাক্কা দেন খালেদ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে গেইলকে বোল্ড করেন খালেদ। ১টি চারে ৯ বলে ৪ রান করেন গেইল।

দুই ক্যারিবিয়ানকে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠার আগেই তৌহিদ হৃদয়কে হারায় বরিশাল। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন হৃদয়। ৮ বলে মাত্র ৫ রান করেন হৃদয়। এতে ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় বরিশাল। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে উইকেটে সেট হবার চেষ্টা করেন সাকিব। এমন অবস্থায় ১৭ বলে মাত্র ৬ রান তুলতে পারেন সাকিব-শান্ত।

অষ্টম ওভারের প্রথম বলে শ্রীলংকার স্পিনার সেক্কুজে প্রসন্নকে ছক্কা মেরে বাউন্ডারি খরা কাটান শান্ত। পরের ওভারে আরেক শ্রীলংকান থিসারা পেরেরাকে ছক্কা মারেন সাকিব। ১০ ওভার শেষে এই ২ উইকেটে ৫৮ রান পায় বরিশাল। ১২ ও ১৩তম ওভারে ২৯ রান তুলেন সাকিব-শান্ত জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম চার বলে ১১ রান তুলেন সাকিব-শান্ত। চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকানোর পর পঞ্চম বলে ফিরেন সাকিব। পেসার কামরুল ইসলামের বলে মিড উইকেটে ইয়াসির আলির তালু বন্ধী হয়ে ৪১ রানে আউট হন সাকিব। তিনি ২৭ বল খেলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ৫৮ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়ে বরিশালের রান ১শতে নিয়ে যান সাকিব ও শান্ত। কিছুক্ষণ বাদে উইকেটে সেট থাকা শান্তকেও থামান পেরেরা। এবারও ক্যাচ নেন ইয়াসির। ৪০ বল খেলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৫ রান করেন শান্ত।

১৫তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১০৯ রানে শান্তর আউটের পর বরিশালের পরের দিকের ব্যাটাররা দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান ৯ বলে ১০, আফগানিস্তানের মুজিবুর রহমান ৬ বলে ১২ রান করেন। ১৮ দশমিক ৫ ওভারে গুটিয়ে যাবার আগে ১৪৫ রান করে বরিশাল। খুলনার খালেদ ৪১ রানে ৩ উইকেট নেন। কামরুল-ফরহাদ রেজা ২টি করে উইকেট নেন।

১৪৬ রানের লক্ষ্যে জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই চার মারেন খুলনার ওপেনার ক্যারিবিয়ান ব্যাটার আন্দ্রে ফ্লেচার। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি আদায় করে নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৩ হাজার রান পূর্ণ করেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।

অবশ্য এরপরের ২৩ বলে কোনো বাউন্ডারি পায়নি খুলনা। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাউন্ডারির দেখা পায় তারা। এতে ৬ ওভার শেষে মাত্র ২২ রান তুলতে সক্ষম হয় খুলনা। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে বরিশালের অধিনায়ক সাকিবের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অনে শান্তকে ক্যাচ দেন সৌম্য। ৩টি চারে ২২ বলে ১৩ রান করেন সৌম্য।

খুলনার প্রথম উইকেট শিকারের পর রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন সাকিব। ৬ রান করেন রনি। পরের ওভারে ফ্লেচারের বিদায় নিশ্চিত করেন ব্রাভো। ঐ ওভারেই পেরেরার উইকেটও তুলে নেন ব্রাভো। ফ্লেচার ২৩ বলে ১২ ও পেরেরা ৪ রান করেন। ১০ ওভার শেষে ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা।

এ খরা থেকে দলকে বের করতে কাউন্টার অ্যাটাক করেন ছয় নম্বরে নামা ইয়াসির আলি। খুলনার বোলারদের উপর চড়াও হন তিনি। অন্যপ্রান্তে ধীরলয়ে এগিয়েছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাই ১৭ ওভার শেষেও শতরানের দেখা পায়নি খুলনা। এতে শেষ ৩ ওভারে ৪৯ রান দরকার পড়ে খুলনার।

১৮তম ওভারে মুশফিকের ১টি চার ও ছক্কায় ১৩ রান পায় খুলনা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি তুলে নেন মুশি। তবে শফিকুল ইসলামের পরের বলে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ২২ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক।

ঐ ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা আসে ইয়াসিরের ব্যাট থেকে। এতে ১৯তম ওভারে ১৫ রান তুলে খুলনা। তাই জিততে শেষ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ২১ রানের। ব্রাভোর করা ঐ ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মারেন প্রসন্ন। তবে পরের বলে আউট হন তিনি। আর শেষ বলে ছক্কা মারেন ইয়াসির। ঐ ওভার থেকে ১৪ রানের বেশি নিতে পারেনি খুলনা। এতে ম্যাচ হারে তারা। ৬ উইকেটে ১৩৯ রান করে খুলনা।

ইনিংস শেষে ৩৪ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৫৭ রান করেন ইয়াসির। বরিশালের ব্রাভো ৪০ রানে ৩টি উইকেট নেন। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সাকিব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফরচুন বরিশাল : ১৪৫/১০, ১৮.৫ ওভার (শান্ত ৪৫, সাকিব ৪১, খালেদ ৩/৪১)।

খুলনা টাইগার্স : ১৩৯/৬, ২০ ওভার (ইয়াসির ৫৭*, মুশফিক ৩৩, ব্রাভো ৩/৪১)।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০১ ফেব্রুয়ারি

Back to top button