এশিয়া

বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কী চাইছেন কিম?

পিয়ংইয়ং, ২৮ জানুয়ারি – একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চলেছে উত্তর কোরিয়া। ২০২২ সালের প্রথম মাস না পেরুতেই পিয়ংইয়ংয়ের কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর সামনে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাপানকে কিছুটা হলেও ঝাঁকুনি দিয়ে গেছে বলে বিবিসি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার এবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০১৭ সালের অগাস্টের চেয়ে কিছুটা আলাদা। ওই সময় জাপানীদের ঘুম ভেঙে ছিলো সাইরেনের শব্দে। কারণ কোনো ধরণের সতর্ক বার্তা ছাড়াই উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল। এই বিষয়টিকে চরম ধৃষ্টতা হিসেবে বিবেচনা করে জাপানিরা।

তবে এবার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বল্প পাল্লার এবং সাগরে যেখানে এগুলো পড়েছে, সেটি জাপানি উপকূল থেকে অনেক দূরে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

কিম জং উন এখনকার জন্য কিছুটা রাশ টেনে ধরেছেন বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে, উত্তর কোরিয়া দ্রুত একটি কার্যকর পারমাণবিক প্রতিরোধকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক একজন নৌ কমান্ডার প্রফেসর কিম ডং ইয়ুপ বলেন, আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এটাই হওয়ার কথা ছিলো। আমি অবাক হচ্ছি, কারণ আমরা উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিকে ছোট করে দেখেছি। আসলে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক সক্ষমতা আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

গত ৫ ও ১০ই জানুয়ারির পরীক্ষার পর পিয়ংইয়ং দাবি করেছিল যে তারা সফলভাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

কারণ এর মানে হলো উত্তর কোরিয়া এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ওই অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ব্যয়বহুল ও জটিল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাকে হারিয়ে দিতে পারে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে হামলা হলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে কার্যকর প্রতিরোধকে রূপান্তর থেকে বহু দূরেই আছে উত্তর কোরিয়া। যদিও দেশ দুটি বারবার বলেছে উত্তর কোরিয়া বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের বা হামলার কোনো লক্ষ্য তাদের নেই।

তার পরও ছোট এই দেশটি কেন তার জিডিপির এক চতুর্থাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করে চলেছে সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে, বিশ্লেষক অঙ্কিত পান্ডা বলেন, যে এমনও হতে পারে যে উত্তর কোরিয়া মনে করে যে নিজেকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র এখনো তাদের নেই।

তিনি বলেন, কিম জং উন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমার মনে হয় তিনি চীন বা রাশিয়াসহ কাউকেই বিশ্বাস করেন না। সে কারণেই হয়তো মনে করছেন যে তার সক্ষমতাকে অনেক বাড়াতে হবে।

সূত্র: যুগান্তর
এম ইউ/২৮ জানুয়ারি ২০২২

Back to top button

This will close in 20 seconds