জাতীয়

মামলা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলেন ড. বেনজীর আহমেদ

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি – ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী ডা. শফিকুলের মামলা কেন নেয়া হলো না, তা জানতে চেয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সপ্তাহে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সভায় এই প্রশ্ন রাখেন আইজিপি। এসময় দ্রুত মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল্লাহপুর থেকে ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি বাসে উঠলে ডাকাত দলের হাতে পড়েন শফিকুল ইসলাম নামের এক চিকিৎসক। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তার চোখ বেঁধে রাতভর তাকে বেধড়ক পেটান ডাকাত দলের সদস্যরা।

রাতভর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ভোরে তাকে চিটাগংরোডের একটা জায়গায় নামিয়ে দেয়ার পর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি যাত্রাবাড়ী থানা। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় গেলে সেখানেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

পুলিশ সপ্তাহের একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, আইজিপি স্যার সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জানতে চান, টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসকের মামলা নেয়া হলো না কেন? কর্মকর্তাদের কাছে এ নিয়ে ব্যাখ্যাও জানতে চান তিনি।

এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে মহাসড়কে ডাকাতির কবল থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরে টাঙ্গাইলের আড়াই শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল লিখেছেন, মহাসড়কে চলাচলকারী একটা বাস ১২ ঘণ্টা ধরে ঢাকা শহরে সারা রাত ঘুরে ডাকাতি করে, কিন্তু ঢাকা সিটির কোনো চেকপোস্ট সেটি থামায় না, বিষয়টা খুবই ভাবনার।‌ এর পাশাপাশি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাতে যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন কাউন্টার ছাড়া কোনো জায়গা থেকে বাসে না উঠতে।

শফিকুল বলেন, গত বৃহস্পতিবার জরুরি প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় আসেন। পরে ফিরে যেতে চান। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টার পর ঢাকা থেকে আর টাঙ্গাইল যাওয়ার বাস নেই। তিনি ও তার বন্ধু আবদুল্লাহপুর যখন পৌঁছান, তখন রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। এসময় ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি বাস দেখতে পেয়ে হাত দেখান তারা। বাসটি থেমে গেলে ১৫০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে দুজনেই ছিটে বসেন। কামারপাড়া পার হওয়ার পর বেশ নির্জন একটা জায়গায় গিয়ে তাদের ওপর ৭-৮ জন ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন গলায়, আরেকজন পেটে ছুরি ধরে তাদের। তার বন্ধুকে বাসের পেছনের দিকে নিয়ে যায়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চড়থাপ্পড় চলে। এসময় একজন বলে ওঠেন, এই বাসের সব ডাকাত। সবকিছু কেড়ে নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলে। সবকিছু দিয়ে দেয়ার পরও ডাকাত দলের অত্যাচার শেষ হয় না। পরে বাসটি চট্টগ্রাম রোডের একটি জায়গায় থামানো হয়। বাসচালক তার সহকারীকে বলেন, সবাই মিলে পুলিশের কাছে যাবেন। তিনি বাসটিকে ঘুরিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যেতে বলেন, কেননা ওখানে থানা আছে। তারা প্রথমে রাজি হলেও পরে বলেন মামলা করলে বাস থানায় আটকে রাখবে। মালিকের সঙ্গে পরামর্শ না করে এই সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন না।

শফিকুল যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশকে সবকিছু খুলে বলেন। শুনে তারা বলেন, যেহেতু আবদুল্লাহপুর থেকে বাসে উঠেছেন তাই অভিযোগ দিতে হবে সেখানে। শুনে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় আসেন। সেখান থেকে বলা হয়, যেখানে নেমেছেন অভিযোগ সেখানে দিতে হবে।

শফিকুল বলেন, আমি বুঝলাম, কেউ দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। জান নিয়ে ফিরেছি। বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৮ জানুয়ারি

Back to top button

This will close in 20 seconds