ঢালিউড

কতদিন আটা, গম, চাল ডিস্ট্রিবিউট করে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচিয়ে রাখবো: ইলিয়াস কাঞ্চন

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি – ‘অনেকদিন ধরেই শিল্পী সমিতির সঙ্গে অন্যান্য সমিতির অনৈক্য চলছে। আমরা যদি চলচ্চিত্রের অন্য সব সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে মুভ করি এবং সবার সহযোগিতা নিয়ে যদি একটা সুন্দর কৌশলপত্র তৈরি করি, তাহলেই কিন্তু এটা খুব একটা কঠিন কাজ হবে না।’- নিরাপদ চলচ্চিত্র অঙ্গন তৈরির পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যক্ত করতে গিয়ে কথাগুলো বলেন আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

শিল্পীতে শিল্পীতে যে বিভাজন তৈরি হয়ে আছে, সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা ও চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে। সার্বিকভাবে আমরা যদি সময়ের সঙ্গে না চলতে পারি, তাহলে পিছিয়ে পড়ব। এখন কিন্তু নতুন ছেলেমেয়েরা চলচ্চিত্রে আসতে চায় না। যখন দেখবে চলচ্চিত্রে একটা ভবিষ্যৎ আছে, তখন অনেকেই আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, শিল্পী ও শিল্পের গৌরব ফিরে এলে নতুনরা এসেও গর্ব বোধ করতে পারবে।

শিল্পী সমিতির সঙ্গে অন্যান্য সমিতির অনৈক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নের জন্য শিল্পী সমিতি ও চলচ্চিত্রের অন্যান্য সমিতির অনৈক্য দূর করা জরুরি। ঐক্য না থাকার কারণে চলচ্চিত্র নির্মাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। চলচ্চিত্র বেশি নির্মাণ না হওয়ার কারণে সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সিনেমাহলের জন্য এক হাজার কোটি টাকা দিলেও হলমালিকেরা সেই টাকা নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। কারণ, মুক্তি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চলচ্চিত্র নেই। হলমালিকদের বক্তব্য, সিনেমাই যেখানে নেই, সেখানে কেন সুদে টাকা নেব?

একটা উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই, আমরা শিল্পীরা কিন্তু সব সময় চলচ্চিত্রের উন্নয়নের চেষ্টা করি। তবে বর্তমান শিল্পী সমিতি সেই কাজ করছে না। সবার মনে আছে কি না জানি না, আমরা ক্যাপাসিটি ট্যাক্স দূর করার জন্য আন্দোলন করেছি। সেই ট্যাক্সের আন্দোলনে আমাদের রাজ্জাক ভাই, আলমগীর ভাই, ফারুক ভাই, পারভেজ ভাই, আমিসহ-আমরা কিন্তু মারও খেয়েছি। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সাকসেস হয়েছে। সাকসেস হওয়াতে ছবির সংখ্যা বেড়েছে। এমন সংখ্যা বেড়েছিল যে শুটিংয়ের সময় এফডিসির ক্যামেরা সেকশন থেকে ক্যামেরা নিতে হলে ঘুষ দিয়ে রাখতে হতো। লাইট নিতে গেলেও একই অবস্থা হতো। আমাদের শিল্পী-সম্মানীও বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমাদের তখন একদম রমরমা অবস্থা। ডাইরেক্টর, প্রডিউসার, আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ানরা রমরমা অবস্থা পার করেছি।

সেই জায়গা থেকে বলতে চাই, ফিল্মের যেকোনো ক্রাইসিস যখনই আসে, তখন শিল্পীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদেরকে মানুষ চেনে। তাদের ডাকে মানুষ রাস্তায় আসে। এমনকি সরকার ও সরকারের আমলারা শিল্পীদের চেনেন। চলচ্চিত্রের এখনকার অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিল্পীসমাজ যদি এগিয়ে না যায়, তাহলে তো এর উত্তরণ ঘটবে না। এখন যেসব শিল্পী বেকার, যাদের কাজ নেই, তাদের যদি আটা, গম, চাল ডিস্ট্রিবিউট করেন-এ দিয়ে কত দিন আপনি তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন, কিংবা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখবেন। ক্যাপাসিটি ট্যাক্সের সময় কাজ বাড়ানোর জন্য শিল্পীরা যে রকম আমরা মার খেয়েছি প্রয়োজনে, এখনকার সংকট দূর করতেও আমাদের অনেক কিছু করতে হবে। আমাদের এখন পলিসি তৈরি করতে হবে। এটা মনে করেই আমি এসেছি।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কিন্তু আলাদা একটা মমত্ববোধ আছে। এখানে এক হাজার কোটি টাকা তিনি দিয়ে রেখেছেন। সেই ব্যাপারে আমরা পলিসি অ্যাডাপ্ট করে যদি তার কাছে যাই, আমার পরিকল্পনার কথা জানাই এবং বলি যে ছবির সংখ্যা না বাড়ালে হলমালিকেরা আপনার দেওয়া ওই টাকা কাজে লাগাতে পারবে না। আপনি যখন এই এই পলিসি অ্যাপ্লাই করবেন, তখন সিনেমার সংখ্যা বাড়বে। সিনেমার সংখ্যা বাড়লে সবাই কাজ করতে পারবে। এতে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। চলচ্চিত্রশিল্পের মানুষের আর হাত পাততে হবে না। মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে। সিনেমাহলে দর্শক যাচ্ছে না বলে সেখানকার মানুষেরাও তো বেকার হয়ে আছে। যখন সিনেমা চলবে, হলে মানুষজনও ভালো থাকবে। শিল্পী, ডাইরেক্টর প্রডিউসার ভালো থাকবে, টেকনিশিয়ানরা ভালো থাকবে। সরকারও এই অঙ্গন থেকে অনেক ট্যাক্স পাবে।

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গুরুত্ব কতটুকু? এমন প্রশ্নে তার উত্তর, এর গুরুত্ব অনেক। আমি বললাম না, আমাদেরকে মানুষ চেনে। আমাদের প্রস্তাবনা পেশ করার জন্য আমাদের শিল্পী সমিতির শিল্পীদের চেহারাগুলো দামি একটা ব্যাপার। এই কাজগুলো তো অন্যরা খুব একটা সহজে করতে পারবে না। আমরা শিল্পীরা চেষ্টা করব যখন, তখন চলচ্চিত্রের সামগ্রিক উন্নতি হবে। এতে শিল্পী, ডাইরেক্টর, প্রডিউসার, নৃত্যশিল্পী, ফাইটিং গ্রুপ এবং টেকনিশিয়ানরা বেনিফিটেড হব। বেনিফিট যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রি ভোগ করতে পারে, সেটা নিয়ে শিল্পী সমিতি অনেক ভূমিকা রাখতে পারে।

এন এইচ, ২১ জানুয়ারি

Back to top button