দক্ষিণ এশিয়া

‘জোর করে কাউকে করোনা টিকা দেওয়া যায় না’, ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে জানাল কেন্দ্র

নয়া দিল্লি, ১৭ জানুয়ারি – ভারতে করোনা টিকাকরণেরএক বছর পূরণ হয়েছে রবিবার। দেশে এখনও অবধি ১৫৬ কোটি ৭৬ লক্ষ করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের (Union Health Ministry) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ৯২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই করোনা টিকার একটি ডোজ পেয়েছেন। দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ বর্তমানে সম্পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত। তবে টিকাকরণের ক্ষেত্রে কোনও ব্য়ক্তিকে জোর করার কথা বা টিকাকরণ বাধ্যতামূলকের মতো নিয়ম কেন্দ্রের তরফে চালু করা হয়নি, এ কথা সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court)-কে জানাল কেন্দ্র।

সম্প্রতিই এভারা ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানায় যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের টিকাকরণের জন্য যেন কেন্দ্র বাড়ি গিয়ে টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করে। এই আর্জির জবাবেই কেন্দ্রের তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের জারি করা করোনা টিকাকরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকায় কোনও ব্যক্তির মতামত বা সম্মতি ছাড়া জোর করে টিকাকরণের কথা বলা হয়নি।

শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের টিকাকরণ সার্টিফিকেট পেশ করার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, এই ধরনের কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, যেখানে সর্বদা ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখা বা পেশ করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে এই ধরনের কোনও নির্দেশিকাই পেশ করা হয়নি।

শীর্ষ আদালতকে কেন্দ্র হলফনামায় বলে যে, “কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাকে জোর করে করোনা টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহত্তর জনস্বার্থেই করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে করোনা টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, কাগজ ও সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে সমস্ত নাগরিককে করোনা টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনওই তাঁকে টিকা দেওয়া যায় না।

সূত্র : একুশে
এন এইচ, ১৭ জানুয়ারি

Back to top button