আইন-আদালত

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিন হত্যার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে: বিচারক

ঢাকা, ০১ নভেম্বর- সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন হত্যা পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যা বলাটা বোধহয় ভুল হবে নয়। অদক্ষ গাড়িচালক, বেপরোয়াভাবে বাস চালানো, গাড়ি চলাচলের অযোগ্য রাস্তা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ইত্যাদি কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলায় হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার-হেলপার-সুপারভাইজারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন বিচারক।

পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, সড়কগুলোতে প্রতিদিন প্রাণ দিচ্ছে বহু মানুষ। কোনোভাবেই যেন মৃত্যুর এ মিছিল থামছে না। এ মামলার ঘটনা দুঃখজনক ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলকে চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ২০১৮ সালের ২১ জুলাই অচেতন অবস্থায় ভাটেরচর ব্রিজ থেকে নিচে ফুলদি নদীতে ফেলে দেয় ড্রাইভার মো. জামাল হোসেন, বাসের সুপারভাইজার জনি ও বাসের হেলপার ফয়সাল। অথচ দুর্ঘটনায় আহত পায়েল তখন জীবিত ছিল। পরে মুন্সীগঞ্জের ভাটেরচর ব্রিজের নীচের ফুলদী নদী থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এরকম অনেক পায়েল মারা যাচ্ছে যাদের কথা আমরা জানতে পারি না।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন হত্যা পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যা বলাটা বোধ হয় ভুল নয়। অদক্ষ গাড়িচালক, বেপরোয়াভাবে বাস চালানো, গাড়ি চলাচলের অযোগ্য রাস্তা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ইত্যাদি কারণেই এই দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। সড়কে প্রতিদিন এত মানুষের মৃত্যু নিছক কি দুর্ঘটনা নাকি হত্যা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বসাধারণের মনে।

তিনি বলেন, কিছু অদক্ষ অসচেতন গাড়ি চালকদের জন্য সড়কে মৃত্যু বাড়ছেই। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদেরও পিষে দিতে দ্বিধান্বিত হচ্ছে না কিছু বাস ড্রাইভার। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিছু চিত্র তুলেও ধরেন বিচারক। তাহলে আর কবে সজাগ হবে আমরা? সড়কে মৃত্যু আমাদের যদি এখনো সচেতন না করে, তাহলে আর করে সচেতন করবে?

বিচারক বলেন, সাইদুর রহমান পায়েল ঢাকা বারিধারা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিবিএ ৫ম বর্ষে অধ্যায়নরত ছিলেন। সে একজন প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্র ছিল। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে সে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগের জন্য যখন নিজেকে তৈরি করছিল ঠিক সেই মুহূর্তে বাস ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারের নির্মমতার শিকার হয়ে তাকে অকালে প্রাণ দিতে হলো।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ০১ নভেম্বর

Back to top button