সিলেট

সিলেটে টিকটকে ঝড় তুলেন মৌ

সিলেট, ১৭ জানুয়ারি – সিলেটে মডেল মৌ-কে নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অপরাধ জগতের নানা ঘটনা আলোচিত হচ্ছে মুখে মুখে। সিলেটি নাটকপাড়ায় তাকে নিয়ে বলাবলি বেশি। সবাই সতর্কও। মৌয়ের অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চান না বলে মুখ বন্ধ রেখেছেন অনেকেই। তবে তার বেপরোয়া জীবন নিয়ে নাটকপাড়ার অনেকে শঙ্কিত। প্রায় ৫-৬ বছর আগে সিলেটে প্রকাশ্যে ছিলেন মৌ। কয়েক দফা গ্রেপ্তারের পর কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি নীরব হয়ে যান।

নিজেকে সরব রাখার জন্য বেছে নেন ভার্চ্যুয়াল জগৎকে। টিকটকে ঝড় তুলতেন মৌ। গ্রেপ্তারের পর মৌয়ের সাম্প্রতিক সময়ের অনেক টিকটক ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এসব টিকটক নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। মৌয়ের সাম্প্রতিক কয়েকটি টিকটকে দেখা গেছে; মৌয়ের সঙ্গে টিকটিক করছেন তার বয়ফ্রেন্ড সোহেলও। আর স্থান হিসেবে তারা সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ককে বেছে নেন। একটি টিকটকে সোহেলের সঙ্গে নানা ভঙ্গিমায় গানে ঠোঁট মেলাচ্ছেন মৌ। সঙ্গে নাচছে সোহেলও। এ ছাড়া আরও কয়েকটি টিকটকে কখনো গাড়ি, কখনো মোটরসাইকেলেও তাদের দেখা গেছে। এসব টিকটক নেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। সিলেটি নাটকপাড়ার মডেল সামিনা ইসলাম মৌয়ের বাড়ি নগরীর কদমতলী এলাকায়। ওই এলাকার পরিচিত এক পরিবারের মেয়ে সে। ওই পরিবার মূলত কদমতলী এলাকা শাসন করতো। এখনো সেই শাসন বিদ্যমান। কিন্তু বখে গেছে মৌ। পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক কারণে বাড়িছাড়া হয় মৌ। এরপর মায়ের সঙ্গে চলে আসে নগরীর কুমারপাড়াস্থ মামারবাড়ি এলাকায়। আর ওখান থেকেই বখে যায় মৌ। সহপাঠীদের সঙ্গে থেকে থেকে সে অন্য জগতে পা বাড়ায়। এরপর মিউজিক ভিডিও ও নাটকে পা বাড়ায়। এখন মৌয়ের পরিচিতি সিলেটজুড়ে। উঠতি বয়সী যুবকদের কাছে তার নাম বহুল পরিচিত। পার্টি, থার্টিফার্স্ট নাইট, বৈশাখী আয়োজন সবখানেই বিত্তশালীদের আয়োজনে ডাক পড়ে মৌয়ের। এসব কারণে মৌয়ের সঙ্গে তার মায়েরও বিরোধ দেখা দেয়। প্রায়ই মৌ মায়ের কথা অমান্য করে বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। বিয়ে করলেও সংসারী না মৌ। তার রূপে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই কাছে ভিড়লেও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে কেউ কাছে ঠাঁই দেন না। ফলে মৌ তার মতোই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সহকর্মীরা জানিয়েছেন, মাদক সেবনই মৌকে অস্বাভাবিকতায় নিয়ে গেছে। ২০-২১ বছর বয়স থেকেই মৌ পুরুষ সঙ্গীদের সঙ্গ দেয়া শুরু করে। তখনই নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে সিসা সেবন করতো। এরপর ইয়াবা সহ নানা রকম মাদকের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। বৃহস্পতিবার সিলেট শহরতলীর সালুটিকরে গ্রেপ্তারের পর মৌ মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছে।

সে জানায়, নিয়মিতই সে ফেনসিডিল সেবন করে। এ জন্য সে তার বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে সালুটিকর, খাগাইল বা কোম্পানীগঞ্জ ছুটে যায়। মাদকের নেশায় আসক্ত থাকার কারণেই সে প্রতিদিনই কোম্পানীগঞ্জ রুটে যায়। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সে যত টিকটক করেছে সবই করেছে কোম্পানীগঞ্জ রুটে। নিরিবিলি পরিবেশ হওয়ার কারণে বাইকার রিয়ার মতো মডেল মৌ-ও ওই রুটে চলে যায়। বর্তমানে সিলেট নগরীর রায়নগর পদ্ম-৬০ নম্বর বাসায় রিয়ার বসবাস। এর আগে নগরীর শেখঘাট, কুয়ারপাড়, বরইকান্দি, শিবগঞ্জ, উপশহর সহ নানা জায়গায় সে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেছে। এলাকায় কিছু দিন থাকার পর সে পরিচিত হয়ে উঠলে বাসা বদল করে চলে যায়।

স্বজনরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ সুরমায় পৈতৃক সূত্রে অনেক সম্পদের মালিক মৌ। এখন তার স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নিজেকে নেশার জগতে ডুবিয়ে রাখতে তাদের কাছ থেকে আলাদাই বসবাস করছে। আর বাড়ির বাইরে থেকে একের পর এক সমালোচিত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর সিলেটি নাটকপাড়ায় তার কাছের জনরা মুখ বন্ধ রেখেছেন। অনেকেই মৌয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা জানান, সিলেটে এখন ভার্চ্যুয়াল জগতে সরব মৌ। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনের যুবকদের নজরে পড়েছে মৌ। তার ডাকে সাড়া দিয়ে লন্ডনিরা সিলেটে এসে মৌয়ের কাছে ছুটে আসেন। অনেকেই তার প্রেম প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্বও হয়েছেন।

সূত্র : নতুন সময়
এন এইচ, ১৭ জানুয়ারি

Back to top button