এশিয়া

শক্তিশালী টাইফুনের আঘাত ফিলিপাইনে

ম্যানিলা, ০১ নভেম্বর- ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২৫ কিলোমিটার (১৪০ মাইল) গতিবেগ নিয়ে ফিলিপাইনে আঘাত করেছে চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ‘গনি’।

দেশটির আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ফিলিপাইনের কাতানদুয়ানেজ দ্বীপে টাইফুনটি আঘাত হানে। এর পর এটি লুজনের মূল দ্বীপে অতিক্রম করতে শুরু করে। এই লুজন দ্বীপেই ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার অবস্থান।

টাইফুনের আঘাতে প্রাণহানি এড়াতে এরইমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শক্তিশালী টাইফুনটি বর্তমানে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে এবং রোববার বিকেল নাগাদ এটি দক্ষিণ ম্যানিলা হয়ে লুজন দ্বীপ অতিক্রম করে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে সরে যেতে পারে।

টাইফুন ‘গনি’কে ফিলিপাইনের স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘রলি’। এটি ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে আঘাত হানা টাইফুন ‘হাইয়ানে’র পর সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন। টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত ফিলিপাইন এবার টাইফুন থেকে বাঁচতে খুব বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পায়নি। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৯ জনের দেহে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৭ হাজার ২২১ জন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সিনেটর ক্রিস্টোফার গো এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে, আর এরই মধ্যে আরও এক দুর্যোগ এসে হাজির হয়েছে।’

দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান রিকার্ডো জালাদ বলেন, লুজনের পূর্ব বিকোল অঞ্চলের ‘প্রায় ১০ লাখ’ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যানিলা ও নিকটবর্তী বুলকান প্রদেশে বড় তাবুতে আইসোলেশনে থাকা প্রায় এক হাজার করোন রোগীকে হোটেল ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফিলিপাইনে বছরে গড়ে ২০টি ঝড় ও টাইফুন আঘাত হানে। গত সপ্তাহেই টাইফুন ‘মোলেইভে’র আঘাতে দেশটিতে ২২ জনের প্রাণহানি হয়।

সূত্র: সমকাল

আর/০৮:১৪/১ নভেম্বর

Back to top button