পাবনা

স্বামীর মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি দেখে প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যা

পাবনা, ০১ নভেম্বর- পাবনার ঈশ্বরদীতে ঐশি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ঐশি সাহাপুর ইউনিয়নের চর আওতাপাড়া গ্রামের মাহাবুল ইসলামের মেয়ে। গত জানুয়ারি মাসে পার্শ্ববর্তী আওতাপাড়া নুরজাহান স্কুল সংলগ্ন হারুন প্রামাণিকের ছেলে জাহিদ হোসেনের (২৫) সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী নিহত ঐশির মা শাহানারা খাতুন জানান, বিয়ের সময় জামাই জাহিদকে নগদ টাকা, আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এরপরও নানা কারনে যৌতুকের জন্য ঐশিকে প্রায়ই মারধোর করতেন জাহিদ। মেয়ের সুখের কথা ভেবে জাহিদকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন তারা। এরপরও আড়াই লাখ টাকার জন্য ঐশির ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন জাহিদ। এর মধ্যে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন জাহিদ। নিজের মানিব্যাগে ওই নারীর ছবি রাখতেন তিনি। এর প্রতিবাদ জানান ঐশী। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে তাদের দাম্পত্য কলহ চরম আকার ধারণ করে। পরে শনিবার বিকেলে ঐশিকে শারীরিক নির্যাতন করেন জাহিদ। এক পর্যায়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে ঐশিকে হত্যা করে লাশ ঘরে ফেলে রেখে জাহিদ ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান। ঘরের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে ঐশির ৭ মাস বয়সী শিশু সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে বাড়ির পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে ঐশিকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র: সমকাল

আর/০৮:১৪/১ নভেম্বর

Back to top button