সাহিত্য সংবাদ

এবার করোনায় আক্রান্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বর্ষীয়ান কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজের বাড়িতে আইসোলশনে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।

গত ২ জানুয়ারি একটি বইমেলা উদ্বোধনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মালদা গিয়েছিলেন আশি পেরোনো এই কথাসাহিত্যিক। তবে মালদার জেলাপ্রশাসক রাজর্ষি মিত্র ও অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসকের করোনা শনাক্ত হওয়ায় সেই বইমেলা স্থগিত হয়ে যায়।

সেখান থেকে বাড়ি ফিরে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে দেখা দেয় সর্দি-কাশিও। শেষমেশ করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়। রিপোর্টে তিনি কোভিড পজেটিভ হয়েছেন।

লেখক-কন্যা দেবলীনা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সাত-আটদিন আগে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে।

লেখক বলেন, শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে ক্লান্তি অনুভব করছেন তিনি। পাশাপাশি দেখা গেছে খাবারে অরুচির লক্ষণ। বর্তমানে চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে তার পরিবার।

১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৭ সালে তার পরিবার কলকাতায় পাড়ি জমায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পেশাজীবন শুরু করেন শিক্ষকতার মাধ্যমে। পরে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা দেশ-এর সহকারী সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন।

১৯৫৯ সালে দেশ পত্রিকায় তার প্রথম গল্প ‘জলতরঙ্গ’ প্রকাশিত হয়। এরপর প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’। এরপর থেকেই নিয়মিত লিখতে থাকেন তিনি। প্রবীণ এই কথাসাহিত্যিকের বইয়ের সংখ্যা দু’শতাধিক। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস- পার্থিব, দূরবীন, মানবজমিন, গয়নার বাক্স, যাও পাখি, পারাপার ইত্যাদি। এছাড়াও শিশুদের জন্য লিখেছেন তিনি। মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, ভুতুড়ে ঘড়ি, হেতমগড়ের গুপ্তধন, নন্দীবাড়ির শাঁখ, ছায়াময় ইত্যাদি তার জনপ্রিয় বই।

এম ইউ/১১ জানুয়ারি ২০২২

Back to top button