অপরাধ

তিতাসের সাবেক কর্মকর্তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ

ঢাকা, ০৯ জানুয়ারি – তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শাহাদাত হোসেন তিতাসের ঢাকার মিরপুর আঞ্চলিক অফিসে ম্যানেজার (রাজস্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্প্রতি তিনি অবসরে যান।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, শাহাদাত হোসেন কর্মরত অবস্থায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন। ঢাকার মিরপুর, ডেমরা, গাজীপুর, সাভার, রূপগঞ্জসহ নানা এলাকায় হোটেল, মিল-কারখানাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক, আবাসিক ভবন, বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন

সূত্র জানায়, শাহাদাত হোসেন ডেমরার মধ্য হাজিনগরে বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

শাহাদাত হোসেন জানান, ডেমরার মধ্য হাজিনগরে ‘ক্ষণিক নীড়’ নামে তার একটি পাকা বাড়ি আছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। এ ছাড়া তার নামে আর কোনো সম্পদ নেই। দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। কোনো অবৈধ সম্পদ থাকলে সেগুলো দেখার সরকারি অথরিটি আছে, তারা দেখতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগে প্লট, পাকা বাড়ি, একাধিক মার্কেটে তার নামে দোকান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে বাড়ির মালিকানা, জমি, দোকান ক্রয়-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে।

ডেমরার মধ্য হাজিপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় স্টুডেন্টএইড স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মশিউর রহমান মুসা বলেন, এলাকার মানুষ শাহাদাত হোসেনকে চতুর বলেই জানেন। তার নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্যও এলাকার মানুষের জানা।

শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ডেমরার মধ্য হাজিনগরের স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন গোপ দক্ষিণ মৌজায় নির্মাণাধীন ‘স্বপ্ন বিলাস’ ভবনে চারটি ফ্ল্যাট, স্বপ্ন বিলাসের পেছনে একটি প্লট, মধ্য হাজিনগরের ইসলাম প্লাজার পাশে চার কাঠা জমি, মধ্য হাজিনগরে একতলা বিশিষ্ট ‘মোল্লা মার্কেট’ নামের মার্কেটের মালিক তিনি। এ ছাড়া তার নামে হাজিনগরে ‘ক্ষণিক নীড়’ নামে পাকা বাড়ি, ক্ষণিক নীড়ের পাশে আরেকটি দোতলা বাড়ি, একই স্থানে এসকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পূর্ব পাশে আরেকটি দোতলা বাড়ি, গোপ দক্ষিণ মৌজা সংলগ্ন সারুলিয়া মৌজার তালতলা মসজিদের পাশে আরও একটি প্লট রয়েছে। আরও বলা হয়, শাহাদাতের ঢাকার গুলিস্তানের টুইন টাওয়ার ভবনের দোতলায় ‘মোল্লা স্পোর্টস’ নামে দুটি দোকান, গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ারের নিচতলায় আরও দুটি দোকান রয়েছে। এসব সম্পদ তিনি নামে-বেনামে করেছেন। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন এনআরবিসি ব্যাংক শাখা ও সারুলিয়া এলাকায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক শাখায় তার নামে হিসাব রয়েছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ০৯ জানুয়ারি

Back to top button