দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে ভ্রমণকারীদের জন্য সাতদিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক

নয়াদিল্লী, ০৭ জানুয়ারি – বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণ করলে সাতদিনের হোম কোয়ারেন্টিন (বিচ্ছিন্নবাস) বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার।

করোনা সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের পরিবার ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা জারি করেছে। এনডিটিভি অনলাইন জানায়, আগামী মঙ্গলবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নির্দেশনা থেকে জানা যায়, সাতদিনের হোম কোয়ারেন্টিনের পর অষ্টম দিনে করোনা আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে।

ওই টেস্টে অবশ্যই তাদের নেগেটিভ হতে হবে। যদি তারা পজেটিভ হন, তাহলে তাদের আইসোলেশনে পাঠানো হবে; আর তাদের সংগ্রহীত নমুনা জ্বীনগত পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হবে।

একইসঙ্গে ভারত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকাও বড় করেছে। গত ডিসেম্বরে নতুন করে নয়টি দেশকে এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯-এ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রী যদি করোনা নেগেটিভও হন, তাহলে পরবর্তী সাতদিন তার স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এমন এক সময়ে এ নির্দেশনা এলো, যখন প্রতিদিনই ভারতে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শুক্রবার একদিনে দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

একইসঙ্গে দেশটিতে সাত মাস পর দৈনিক করোনা শনাক্ত এক লাখ ছাড়িয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এর আগে গত বছরের জুন মাসে দৈনিক এক লাখ আক্রান্ত হওয়ার গন্ডি পার করেছিল ভারত। শুক্রবারের নতুন করোনা আক্রান্তের হিসেব বলছে, ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৬।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে গত একদিনে মোট ৩৬ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৪২১ জন। পশ্চিমবঙ্গের পর আক্রান্ত হওয়ার নিরিখে রয়েছে যথাক্রমে দিল্লি (১৫ হাজার ৯৭ জন), তামিলনাড়ু (৬ হাজার ৯৮৩ জন) এবং কর্ণাটক (৫ হাজার ৩১ জন)।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মোট ৩০২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেরালায় সর্বাধিক ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর নিরিখেও দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গে। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে ১৯ জন মারা গেছেন। ভারতে বর্তমানে সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩।

একই সঙ্গে ভারতে হু-হু করে বাড়ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটিতে বর্তমানে মোট ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭ জন। তবে তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৯৯ জন ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ওমিক্রন আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে মোট ৮৭৬ জন করোনার নতুন রূপ ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। এর পরই রয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে মোট ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৫।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০৭ জানুয়ারি

Back to top button