জানা-অজানা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী কয়েকজন শিশু

সাইফ ইমন

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নিয়ে প্রতিবছরই একটি তালিকা হয়। এ তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের আয়ের উৎস, সামাজিক কার্যক্রম অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়। বড়দের মতো বিশ্বে অনেক কোটিপতি শিশু রয়েছে। এসব কোটিপতি শিশুর অনেকেই সম্পূর্ণ নিজের আয়ে আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী কয়েকজন শিশুর নাম সামনে এসেছে, যাদের প্রায় অর্ধেকেই উপার্জন করছে লাখ লাখ পাউন্ড। এমন কিছু শিশু নিয়ে আজকের রকমারি…

মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭১ লাখ পাউন্ড

রায়ান কাজী

সাত বছর বয়সী রায়ান কাজীর নিজের উপার্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭১ লাখ পাউন্ড। রায়ান যুক্তরাষ্ট্রে থাকে এবং ইউটিউবে তার সর্বাধিক জনপ্রিয় ভিডিওগুলোতে দেখা যায় সে তার উপহারের বাক্স খুলে বিভিন্ন খেলনা বের করে। সেই খেলনাগুলো পর্যালোচনা করে রিভিউ দেয় রায়ান। এভাবে আয়ের দিক থেকে বহু রথী-মহারথীকে পেছনে ফেলেছে রায়ান কাজী। ২০১৯ সালে তার আয় হয়েছে প্রায় ২২১ কোটি টাকা বা ২৬ মিলিয়ন ডলার। ইউটিউব প্ল্যাটফরমে শিশুদের খেলনা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে এ আয় করেছে রায়ান। ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ইউটিউবের সর্বোচ্চ আয় করা তারকার তালিকায় উঠে এসেছে রায়ানের নাম। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, ২০১৮ সালেও ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি আয় করা তারকার তালিকায় নাম ছিল রায়ানের। সারা বিশ্বেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই শিশু, যা সত্যিই বিস্ময়কর অর্জন বটে।

গান গেয়ে কথা বলে উপার্জন লাখ লাখ পাউন্ড

সোফিয়া গ্রেস ব্রাউনলি

এলেন ডিজিনিয়ার্স শোতে সোফিয়া তার চাচাতো বোন রোজির সঙ্গে মেগান ট্রেইনরের সুপারব্যাস গেয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। আট বছর ধরে বেশ সফলতার সঙ্গে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করে আসছে সোফিয়া। তার সম্পদের পরিমাণ ১৪ লাখ পাউন্ড এবং সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। মূলত বিভিন্ন রকম গান কভার করে সে। বিভিন্নভাবে মেকআপ করেও ভিডিও আপ করে সে। প্রতিটি ভিডিওই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ ছাড়া নিজের সম্পর্কে এবং পারিপার্শ্বিক নানা বিষয়ে কথা বলে ভিডিও আপলোড করে সোফিয়া। গত বছর কয়েক মাসের জন্য তার চ্যানেলে ভিডিও আপলোড বন্ধ ছিল। ফলে সারা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য মেসেজ আসতে থাকে তার নতুন ভিডিওর জন্য। এরপর জনপ্রিয় এ ইউটিউবার নতুন করে আবারও ভিডিও আপলোড শুরু করে।

বাস্তবের স্পাইডারম্যান এই কোটিপতি শিশু

আরাত হোসেইনি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ছোট্ট শিশু। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ৮ লাখ ৭ হাজারের বেশি। বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। নাম আরাত হোসেইনি। ইরানের বাবোল শহরের বাসিন্দা। ইনস্টাগ্রামের ভিডিওতে আরাতের অদ্ভুত কীর্তি দেখলে স্বয়ং স্পাইডারম্যানও তাকে ফলো করতে বাধ্য হতো! সাড়ে তিন বছর বয়সে সে ১০ ফুট উচ্চতার দেয়াল বেয়ে ওঠে তরতর করে। এ ছাড়া জিমন্যাস্টিকসের নানা মুভ করে অবলীলায়। আরাতের বাবা মুহাম্মদ বাড়িতে নিজেই অল্পবিস্তর ট্রেনিং দিতে শুরু করেন তাকে। সেসব ভিডিও আপলোড করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাঁচ শতাধিক ভিডিও আছে এ শিশুর। তার উপার্জনও কোটি কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সহযোগিতা থেকে পাওয়া অর্থ, মানুষের সামনে উপস্থিতি এবং স্পন্সর পোস্ট। সে মূলত তালিকায় স্থান পেয়েছে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরমে সর্বাধিক অর্থ উপার্জন করে।

নেট দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় যমজ

মিলা ও এমা স্টাফার

মিলা ও এমা স্টাফার বর্তমানে নেট দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় যমজ দুই বোন। বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা শিশুর তালিকায় স্থান পেয়েছে তারা। কারণ ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে সর্বাধিক অর্থ উপার্জন করে দুই বোন। পঞ্চম স্থানে আছে যমজ শিশু মিলা এবং এমা স্টাফার। সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড।

তাদের মায়ের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। রাতারাতি তারকা বনে যায় এ দুই বোন। নিজেদের ভিডিওতে তারা মূলত বড় হয়ে কী হতে চায় সে সম্পর্কে কথা বলে। এই দুই বোন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছে। স্পন্সর পোস্ট এবং বিজ্ঞাপন থেকেও প্রচুর আয় করে এ দুই তারকা বোন। ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় এ দুই বোনের নাম।

ভিডিও আপলোড করলেই কোটি কোটি ভিউ

এভারলেয় রোজ সুটাস

এভারলেয় রোজ সুটাস এক বিস্ময়কর শিশু। জন্মের সময়ই ভাগ্যবতী হয়ে এসেছে পৃথিবীতে। বিস্ময় শিশু এভারলেয়ের বয়স মাত্র ছয় বছর। তবে ইতিমধ্যে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ পাউন্ড। পরিবারকে অনুসরণ করেই ইউটিউবার হয়েছে সে। তার মা সাভানাহ সুটাস এবং বাবা কোল ল্যাব্রান্টের আলাদা একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। বাবা-মা ইতিমধ্যেই ইউটিউবে বিখ্যাত। তারই সূত্র ধরে এভারলেয়ও এখন বিখ্যাত ইউটিউবারদের একজন। মূলত বিভিন্ন পণ্যের বাক্স খুলে সেটা যাচাই-বাছাইয়ের ভিডিও করে থাকে সে। তার এই আনবক্সিং ভিডিওগুলো বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে। গোটা বিশ্বেই তার ভিডিওগুলো কোটি কোটি ভিউ পেয়ে থাকে। হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিস বানানো বা ক্রাফট চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এখন মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে এভারলেয়। বিভিন্ন পণ্যের মডেল হিসেবে পোজ দিতে মাঝেমধ্যেই দেখা যায় রোজকে।

ফোর্টনাইট বিশ্বকাপ জয় করেছে

কাইল গিয়ার্সডর্ফ

সর্বোচ্চ আয়ের সূত্র ধরে দ্বিতীয় স্থানে আছে গেমিং ইনফ্লুয়েন্সার কাইল গিয়ার্সডর্ফ। ১৬ বছর বয়সী কাইল ফোর্টনাইট বিশ্বকাপ জয় করেছে। এর মাধ্যমে সে পুরস্কার হিসেবে অর্জন করেছে ২৬ লাখ পাউন্ড। এখন তার ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। প্রতিনিয়ত তার ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ছেই। এত কম বয়সে এত টাকা হাতে পেয়ে গণমাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানায় গিয়ার্সডর্ফ।

আমেরিকাজুড়েই কাইল গিয়ার্সডর্ফ এক জনপ্রিয় নাম। সে জানায়, এ অর্জনের পেছনে রয়েছে আমার বাবা-মায়ের অবদান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এ খুদে কোটিপতি। ভবিষ্যতেও সমর্থক ও ফলোয়ারদের তার প্রতি এখনকার মতো সমর্থন জানাতে অনুরোধ করেছে কাইল গিয়ার্সডর্ফ।

সালমা হায়েকের কোটিপতি মেয়ে

ভ্যালেন্টাইন পালোমা

সালমা হায়েক হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী। অনেকের সঙ্গেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়েছেন। অবশ্য ফ্রেঞ্চ ব্যবসায়ী ফ্রানসোয়া হেনরি পিনোর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর পুরো হিসাবটা বদলে যায় এ অভিনেত্রীর। অভিনেত্রী সালমা হায়েক এবং করপোরেট জগতের এক্সিকিউটিভ হেনরি পিনোর মেয়ে ভ্যালেন্টাইন পালোমা পিনো।

বিশ্বের কোটিপতি শিশুদের তালিকায় আছে তারকা দম্পতির এ মেয়ে। সালমা হায়েক ২০০৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবেসে বিয়ে করেন পিনোকে। তাদের মেয়ে ভ্যালেন্টাইন পালোমা পিনোর বয়স এখন সাত বছর। জানলে অবাক হবেন, খুদে এ ভ্যালেন্টাইন পালোমা পিনোর সম্পদের পরিমাণ ১২ মিলিয়ন ডলার!

৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাড়ির মালিক

বোরাম

ইউটিউবের মাধ্যমে অল্প বয়সেই তারকাখ্যাতি অর্জন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার বোরাম। সম্প্রতি ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সিউলে পাঁচতলা একটি বাড়ি কিনে তাক লাগিয়েছে এ শিশু। বোরামের দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে। বোরামের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিওটি ৩৭৬ মিলিয়নেরও বেশি দেখা হয়েছে।

বোরাম পুরো অর্থই জোগাড় করেছে নিজের উপার্জন থেকে। একটি চ্যানেলে বাজারে আসা নতুন নতুন খেলনার রিভিউ পোস্ট করে সে। এ চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ১ কোটি ৩৬ লাখ। অপরটি ভিডিও ব্লগ। এটির সাবস্ক্রাইবার ১ কোটি ৭৬ লাখ। দুই চ্যানেল মিলিয়ে বোরামের অনুসারী তিন কোটির বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ান এ শিশুর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ বার।

সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর সারিতে তার অবস্থান তৃতীয়

জর্জ আলেকজান্ডার লুইস

পুরো নাম জর্জ আলেকজান্ডার লুইস। দুই বছর বয়সেই বিলিয়নিয়ার বনে গেছে এ প্রিন্স। সে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ ডিউক অব এডিনবরার নাতি। কমনওয়েলথ রাজ্য নামে পরিচিত ষোলোটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের (যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জামাইকা, বারবাডোস, বাহামা, গ্রেনাডা, পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টুভালু, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইন, বেলিজ, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা এবং সেন্ট কিটস ও নেভিস) সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর সারিতে তার অবস্থান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনে তার আগে রয়েছেন দাদা চার্লস, প্রিন্স অব ওয়েলস এবং বাবা প্রিন্স উইলিয়াম, ডিউক অব কেমব্রিজ। ২০১৩ সালের ২২ জুলাই লন্ডনের সেন্ট মেরিজ হাসপাতালে ব্রিটিশ সময় ১৬:২৪টায় পুত্র সন্তান জর্জ আলেকজান্ডার লুইসের জন্ম দেন কেট মিডলটন। উত্তরাধিকার সূত্রে বিলিয়নিয়ার সে।

১৩ বছর বয়স থেকেই ৪ মিলিয়ন ডলার আয়

রিকো রদ্রিগেজ

হলিউডের কিছু তারকা যারা একসময় শিশুশিল্পী থেকেই জনপ্রিয় ছিলেন। প্রতিভার জোরে হলিউডে আজ তারাই তাবড় সেলিব্রেটিদের একজন। এমনই একজন প্রতিভাবান খুদে তারকা রিকো রদ্রিগেজ। তাকে ভবিষ্যতের তারকা ভাবা হচ্ছে এখন থেকেই। জনপ্রিয় ড্রামা সিরিয়াল ‘মডার্ন ফ্যামেলি’ হয়তো অনেকেই দেখেছেন। এ সিরিয়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করে রিকো রদ্রিগেজ। তখন থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে যায় এ খুদে অভিনয় শিল্পী। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই এ অভিনেতা ৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে। তার বেশির ভাগ আয় আসে মডার্ন ফ্যামেলি সিরিয়াল থেকেই। রয়েছে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে। এতে রয়েছে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার।

এন এইচ, ০১ নভেম্বর

Back to top button