জাতীয়

দু’বছরে পানিতে ডুবে ২১৫৫ জনের মৃত্যু

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি – গত দু-বছরে (২০২০ ও ২০২১) পানিতে ডুবে সারাদেশে ২ হাজার ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৭৯৯ জনেই শিশু। পানিতে ডুবে মানুষ মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে নেত্রকোনা জেলা। অপরদিকে, শরীয়তপুরে সবচেয়ে কম মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টি’ গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজপোর্টালে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সমষ্টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে।

প্রতিবেদনে হয়, এ সময়ে প্রকাশিত এক হাজার ৪২৬টি ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সব ঘটনায় ৬৪ জেলায় ২ হাজার ১৫৫ জন ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়। মৃতদের ৮৩ শতাংশ শিশু।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাধারণত পানিতে ডুবে মৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে না। গণমাধ্যমের রিপোর্টের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলা থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) ২০২১ সালের ১ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সংগৃহীত তথ্য তুলনা করে দেখা গেছে, মোট মৃত্যুর ৪৭ শতাংশেই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ সময়ে চাঁদপুর জেলার সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় পানিতে ডুবে ৫১ জন মারা যায়। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী দুই বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯৭ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৩৮ জন, রাজশাহীতে ২৭০ জন, রংপুরে ২৫২ জন, ময়মনসিংহে ২৩০ জন, বরিশালে ১৮৬ জন, খুলনায় ১৫৮ জন ও সিলেট বিভাগে ১২৪ জন মারা যায়। গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায় নেত্রকোনায় ৯১ জন। পরের স্থানগুলোতে রয়েছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুড়িগ্রাম জেলা। এসব জেলায় যথাক্রমে ৮১, ৭৩ ও ৬৯ জন মারা যায়। সবচেয়ে কম চারজন মারা গেছেন শরীয়তপুরে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে চার বছর বা কম বয়সী ৮৫৭ জন, ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ৬৫৫ জন, ১০ থেকে ১৪ বছরের ২১২ জন এবং ১৫ থেকে ১৮ বছরের ৭৩ জন। ৩৫৮ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের বেশি।

গত ২৪ মাসের হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগস্ট মাসে। দুই বছরে এ মাসে যথাক্রমে ১৭১ ও ২১২ জন মারা গেছে। এছাড়া জুলাই মাসে যথাক্রমে ১৬৩ ও ১৫৭ জন এবং জুন মাসে যথাক্রমে ৯১ ও ১৪২ জনের মৃত্যুর খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে গত ২৪ মাসে এক হাজার ৮৯৪ জন কোনো না কোনোভাবে পানির সংস্পর্শে এসে ডুবে যায়। ২০৬ জন মারা যায় নৌযান দুর্ঘটনায়। ৫৫ জন বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়।

পরিবারের সদস্যদের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে (৮৯ শতাংশ)। অধিকাংশ শিশু পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি কাছের পুকুর বা জলাশয়ে ডুবে দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে উত্থাপন হলে সেটি দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজকের পত্রিকার সম্পাদক ও সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এবং জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া জিএইচএআই আঞ্চলিক পরিচালক বন্দনা সাহা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিসহ সাংবাদিকরা আলোচনা করেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সমষ্টির পরিচালক মীর মাসরুর জামান। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বিষয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন জিএইচআইয়ের কমিউনিকেশন ম্যানেজার সরওয়ার-ই-আলম এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেন সমষ্টির গবেষণা পরিচাল রেজাউল হক।

অনুষ্ঠানে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বিষয়ক সাংবাদিকতার ফেলোশিপ অর্জনকারী প্রথম আলোর পার্থ শংকর সাহা, সমকালের জাহিদুর রহমান ও ডেইলি স্টারের নীলিমা জাহানকে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৫ জানুয়ারি

Back to top button