জাতীয়

মার্কিন সামরিক অনুদান প্রাপ্তি: সম্মতি পাঠাতে সময় চেয়েছে বাংলাদেশ

আরিফুজ্জামান মামুন

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অনুদানের অর্থ কোথায়, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে সে বিষয়ে তথ্য জানাতে দেশটিকে সম্মতিপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ জন্য সম্মতিপত্র পাঠাতে ঢাকা সময় চেয়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে পাঠানো এক চিঠিতে এই সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ‘ভেটিং’ প্রয়োজন আছে। এ ছাড়া এ নিয়ে সরকার আরও আলাপ-আলোচনা করতে চায়। এক কর্মকর্তা বলেন, তথ্য জানানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক। তবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত রূপরেখার ওই সম্মতিপত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টি যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে বিষয়গুলোও উল্লেখ থাকবে।

গত সপ্তাহে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সম্মতিপত্র পাঠানোর ব্যাপারে বলেন, আমরা এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত। তাদের সব শর্তই মোটামুটিভাবে আমরা মানি। এখন আমরা জবাবের ভাষা নিয়ে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র প্লেন ফরম্যাটে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতি জানতে চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা আমাদের সেফগার্ড বজায় রেখেই তাদের আমাদের সম্মতির কথা জানিয়ে দেব। মার্কিন অনুদান সংক্রান্ত এগ্রিমেন্ট বা সমঝোতা সইয়ের আগে বাংলাদেশে কী কী বিষয়ে জোর দিচ্ছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, অনুদান প্রদান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্য থাকলে তা যাতে আগেভাগে জানানো হয় অর্থাৎ আগাম কনসালটেশন, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের সূত্র এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চাই আমরা। যদি কোনো সংস্থাকে তাদের অনুদান দিতে আপত্তি থাকে তবে তারা যেন সেটি জানায় এবং আমরা যেন আগাম আলোচনা করতে পারি এটা নিশ্চিত করেই মার্কিন লেহি অ্যাক্টের অধীনে অনুদান পাওয়া সংক্রান্ত সম্মতিপত্র পাঠাব। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বিষয়ে জানতে চাইবে বাংলাদেশ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং এ ক্ষেত্রে ঢাকা বাড়তি সময়ও চায় বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

১৯৬১ সালে প্রবর্তিত মার্কিন লিহেই আইনে সম্প্রতি সংশোধনী আনা হয়েছে। সার্বজনীন ওই আইনে নতুন সংযোজিত ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দেশের নিরাপত্তা সংস্থা বা বাহিনী যদি নির্যাতন, আইন বহির্ভূত হত্যা, গুম ও ধর্ষণজনিত কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে ওই সংস্থাকে অনুদান দিতে পারবে না মার্কিন সরকার। এ ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এমন কোনো সংস্থা বা বাহিনীও অনুদান পাবে না। বাইডেন প্রশাসনের বৈশ্বিক অনুদানবিষয়ক ওই অবস্থান বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য জানিয়ে সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন থেকে মার্কিন অনুদান যেসব দেশ পেতে চায় তাদের বরাদ্দ কোন কোন বাহিনী পাবে এবং তা কীভাবে হচ্ছে তা আগেভাগে জানাতে হবে। ফলে সংশোধিত লিহেই আইনের কারণে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক অনুদান গ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর এ সম্পর্কিত আগাম তথ্য সরবরাহের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো ওই আইনের সংশোধনী ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে প্রায় সাড়ে সাত কোটি ডলার অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং এবং আন্তর্জাতিক মিলিটারি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। ওই অর্থের একটি বড় অংশ বঙ্গোপসাগরে মার্কিন যে উদ্যোগ রয়েছে সেটি শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি হ্যামিলটন কাটার নৌজাহাজ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ৫০টি মাল্টি রোল আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৫ থেকে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ২০১২ সালে ১৮ কোটি ডলার ব্যয়ে চারটি সি-১৩০ পরিবহন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ০৫ জানুয়ারি

Back to top button